ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

ট্রাম্পের দাবি, ‘চাঁদ আমাদের’; মহাকাশ থেকে নিউ মেক্সিকো—নাম বদলের হিড়িক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 82

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চাঁদের মালিক যুক্তরাষ্ট্র। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা জুড়ে দেন তিনি। ছবিটির পাশে লেখেন, ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’—অর্থাৎ ‘চাঁদ আমাদের’।

চাঁদের ছবি প্রকাশের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের জন্য নতুন কালো রঙের ইউনিফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি শেয়ার করেন। ইউনিফর্মের রংকে তিনি ‘স্পেস গ্রে, মিডনাইট ব্ল্যাক, সিলভার গ্রে এবং স্যাটিন ব্ল্যাক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এসব ইউনিফর্মে কাঁধ ও কলারের ইনসিগনিয়া, হাতায় প্যাচ এবং বেল্ট রয়েছে।

ট্রাম্পের চাঁদের মালিকানার দাবি এবং নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই নতুন পোশাককে ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমার ইম্পেরিয়াল সামরিক বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে তুলনা করেন। একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেন, চাঁদেই কেন থামবেন? মঙ্গল গ্রহের কী হবে? এমনকি সূর্যেও যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক অবস্থান রয়েছে ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’তে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০০টির বেশি দেশ ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো দেশ সার্বভৌমত্ব, ব্যবহার বা দখলের মাধ্যমে চাঁদ কিংবা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর মালিকানা দাবি করতে পারবে না।

নাম বদলের হিড়িক

একই ধারাবাহিক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেন। গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে তিনি প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সিরিয়াস ছিলেন না।

এরপর নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজও এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা এমন একটি ছবি পুনঃপ্রকাশ করে, যেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে তার জায়গায় ‘আমেরিকা’ লেখা হয়েছে।

নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম ফক্স নিউজে ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাব দেন। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই নেই। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও আগে থেকেই এটি তাদের পরিচয়ের অংশ।

তার দাবি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে আমেরিকানদের দৃষ্টি সরাতেই ট্রাম্প এমন প্রস্তাব দিচ্ছেন।

এর আগে আরও একটি নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে কয়েক দিন আগে তিনি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন। ২৭ আগস্ট ওভাল অফিস থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

লেক অন্টারিও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে থাকা পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি। কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে এর নামের মিল রয়েছে। লেকটির উত্তর-পশ্চিম তীরে অবস্থিত কানাডার টরন্টো।

লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন হুরন-ওয়েন্ডাট ফার্স্ট নেশনের গ্র্যান্ড চিফ পিয়েরে পিকার্ড। তিনি এ উদ্যোগকে ‘জঘন্য ও অকথ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলার’ চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

এর আগে ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউজে ফেরার প্রথম দিনেই ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার ঘোষণা দেন। মেক্সিকো সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। কানাডাও লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সুপারহিরো রূপে ট্রাম্প

এদিকে আলাদাভাবে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পকে ‘গ্রিন ল্যান্টার্ন’ চরিত্রে দেখানো একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করেছে। এর সঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করা হয়। একটি ছবিতে ট্রাম্পকে ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তার এক হাতে উজ্জ্বল সবুজ শক্তির আংটির মতো একটি বস্তু দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: সিএনবিসি টিভি ১৮

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের দাবি, ‘চাঁদ আমাদের’; মহাকাশ থেকে নিউ মেক্সিকো—নাম বদলের হিড়িক

আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চাঁদের মালিক যুক্তরাষ্ট্র। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা জুড়ে দেন তিনি। ছবিটির পাশে লেখেন, ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’—অর্থাৎ ‘চাঁদ আমাদের’।

চাঁদের ছবি প্রকাশের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের জন্য নতুন কালো রঙের ইউনিফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি শেয়ার করেন। ইউনিফর্মের রংকে তিনি ‘স্পেস গ্রে, মিডনাইট ব্ল্যাক, সিলভার গ্রে এবং স্যাটিন ব্ল্যাক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এসব ইউনিফর্মে কাঁধ ও কলারের ইনসিগনিয়া, হাতায় প্যাচ এবং বেল্ট রয়েছে।

ট্রাম্পের চাঁদের মালিকানার দাবি এবং নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই নতুন পোশাককে ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমার ইম্পেরিয়াল সামরিক বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে তুলনা করেন। একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেন, চাঁদেই কেন থামবেন? মঙ্গল গ্রহের কী হবে? এমনকি সূর্যেও যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক অবস্থান রয়েছে ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’তে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০০টির বেশি দেশ ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো দেশ সার্বভৌমত্ব, ব্যবহার বা দখলের মাধ্যমে চাঁদ কিংবা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর মালিকানা দাবি করতে পারবে না।

নাম বদলের হিড়িক

একই ধারাবাহিক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেন। গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে তিনি প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সিরিয়াস ছিলেন না।

এরপর নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজও এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা এমন একটি ছবি পুনঃপ্রকাশ করে, যেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে তার জায়গায় ‘আমেরিকা’ লেখা হয়েছে।

নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম ফক্স নিউজে ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাব দেন। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই নেই। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও আগে থেকেই এটি তাদের পরিচয়ের অংশ।

তার দাবি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে আমেরিকানদের দৃষ্টি সরাতেই ট্রাম্প এমন প্রস্তাব দিচ্ছেন।

এর আগে আরও একটি নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে কয়েক দিন আগে তিনি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন। ২৭ আগস্ট ওভাল অফিস থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

লেক অন্টারিও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে থাকা পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি। কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে এর নামের মিল রয়েছে। লেকটির উত্তর-পশ্চিম তীরে অবস্থিত কানাডার টরন্টো।

লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন হুরন-ওয়েন্ডাট ফার্স্ট নেশনের গ্র্যান্ড চিফ পিয়েরে পিকার্ড। তিনি এ উদ্যোগকে ‘জঘন্য ও অকথ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলার’ চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

এর আগে ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউজে ফেরার প্রথম দিনেই ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার ঘোষণা দেন। মেক্সিকো সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। কানাডাও লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সুপারহিরো রূপে ট্রাম্প

এদিকে আলাদাভাবে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পকে ‘গ্রিন ল্যান্টার্ন’ চরিত্রে দেখানো একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করেছে। এর সঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করা হয়। একটি ছবিতে ট্রাম্পকে ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তার এক হাতে উজ্জ্বল সবুজ শক্তির আংটির মতো একটি বস্তু দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: সিএনবিসি টিভি ১৮