ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ ভারতের আমদানিকারকদের বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ দেশে সারের সংকট নেই, মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

৭ বছর ও তদূর্ধ্বদের সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৭.৯ শতাংশ: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13

দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫’-এর তথ্যের ভিত্তিতেই এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, যা গত কয়েক বছরে দেশে সাক্ষরতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে।

আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশের বেশি পৌঁছানো নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। তবে এখনো দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের দ্রুত সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সাক্ষরতা শুধু নাম-দস্তখত করা বা বর্ণমালা চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ইউনেস্কো নির্ধারিত এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য—‘লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপারিটি’কে সামনে রেখে সাক্ষরতাকে কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের (বিএনকিউএফ) মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন, অর্থাৎ ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সরাসরি স্থায়ী চাকরি, শোভন কাজে শিক্ষানবীশ অথবা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে ববি হাজ্জাজ আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক মডেলের ওপর ভিত্তি করেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সাক্ষর, প্রযুক্তি-সচেতন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত (অতিরিক্ত দায়িত্ব), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৭ বছর ও তদূর্ধ্বদের সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৭.৯ শতাংশ: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫’-এর তথ্যের ভিত্তিতেই এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, যা গত কয়েক বছরে দেশে সাক্ষরতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে।

আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশের বেশি পৌঁছানো নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। তবে এখনো দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের দ্রুত সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সাক্ষরতা শুধু নাম-দস্তখত করা বা বর্ণমালা চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ইউনেস্কো নির্ধারিত এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য—‘লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপারিটি’কে সামনে রেখে সাক্ষরতাকে কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের (বিএনকিউএফ) মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন, অর্থাৎ ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সরাসরি স্থায়ী চাকরি, শোভন কাজে শিক্ষানবীশ অথবা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে ববি হাজ্জাজ আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক মডেলের ওপর ভিত্তি করেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সাক্ষর, প্রযুক্তি-সচেতন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত (অতিরিক্ত দায়িত্ব), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।