ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- আপডেট সময় : ০৫:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 123

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। এ কারণে তিনি দুঃখিত।
তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো পরিস্থিতি রয়েছে বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তাতে মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায় শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা শুধু শব্দ কমানোর কথা বলেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা তৈরি হওয়া সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে নৌকাবাইচের প্রসঙ্গেও নিজের তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি জানান, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত।
হাসনাত বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে তা কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটি সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা তার উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমিত থাকায় সে সুযোগ পাননি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নীতি ও সিদ্ধান্ত নিতে চান। তার মতে, জুলাই এমন একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ নিজের মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।
বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসবসহ বিভিন্ন মত ও সংস্কৃতির সহাবস্থান থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যার যে বিষয় পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে এবং যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না—সরকারের দায়িত্ব হবে সবার সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবি, সরকার বর্তমানে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন।


























