আইনি ও বিচারিক সংস্কারসহ সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস ইউএনডিপির
- আপডেট সময় : ০৬:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 18

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সরকারের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। বিষয়টি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স এ সহযোগিতার কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চায় সংস্থাটি। মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে মন্ত্রী মনোনীত হওয়ায় তারা আনন্দিত। মন্ত্রী চাইলে এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইউএনডিপি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপির বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়েও আলোচনা হয়। আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড় ধস প্রতিরোধ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করতে চায় সরকার। তবে বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় ক্যাম্প এলাকায় নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না।
বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতেও ইউএনডিপি কাজ করছে বলে জানান সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি। নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কার্যকরভাবে প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউএনডিপি।
এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। আইনটির সফল বাস্তবায়নে ইউএনডিপি লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে।
প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের সময় ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ফলে আইনটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।
নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ সময় জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
বাংলাদেশের প্রকৃত ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ উল্লেখ করে এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
























