ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা, সতর্ক থাকার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 35

উজানের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে সকালে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।

তবে পানি কমলেও তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঘরবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও আগামী এক দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি প্রথম দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও আগামী তিন দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা, সতর্ক থাকার আহ্বান

আপডেট সময় : ০২:৪০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

উজানের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে সকালে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।

তবে পানি কমলেও তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঘরবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও আগামী এক দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি প্রথম দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও আগামী তিন দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।