ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ধামা ইলিয়াছের তথ্যে গ্রেফতার ডেভিড ইমন, উদ্ধার বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রের মজুদ ৪ আগস্ট বিএনপির আলোচনা সভা, প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ বাংলাদেশের ৩ লাখ ও মালয়েশিয়ার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন লেভানডফস্কি, কারণ জানালেন তার এজেন্ট আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই’— বিয়ে ও মামলা নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি এসএমসি এন্টারপ্রাইজে অফিসার পদে নিয়োগ, আবেদন চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হজের বিমান ভাড়া আরও কমানোর উদ্যোগ, হাজিদের আবাসন ব্যয় কমাতেও আলোচনা অপ্রয়োজনীয় সিজার এড়িয়ে মায়ের দুধ খাওয়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্রে ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্রে ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 1

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মানবপাচার এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্রাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে মানবপাচারের কৌশল আরও জটিল ও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন অপরাধী চক্রগুলো শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতেই নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ভুয়া অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশেষ করে তরুণ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করছে।

তিনি জানান, উন্নত চাকরি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচলিত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (ইউএনটিওসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের আলোকে প্রণীত এই আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে সম্পৃক্ত করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’-কে যুগোপযোগী করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার এবং অংশীদারিত্ব—এই চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। এজন্য ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক সেবা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা যায়।

তিনি জানান, তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং মানবপাচারের মামলাগুলোর কার্যকর পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ, নারী এবং বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া নিয়োগ চক্র সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ডে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্রে ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মানবপাচার এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্রাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে মানবপাচারের কৌশল আরও জটিল ও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন অপরাধী চক্রগুলো শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতেই নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ভুয়া অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশেষ করে তরুণ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করছে।

তিনি জানান, উন্নত চাকরি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচলিত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (ইউএনটিওসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের আলোকে প্রণীত এই আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে সম্পৃক্ত করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’-কে যুগোপযোগী করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার এবং অংশীদারিত্ব—এই চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। এজন্য ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক সেবা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা যায়।

তিনি জানান, তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং মানবপাচারের মামলাগুলোর কার্যকর পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ, নারী এবং বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া নিয়োগ চক্র সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ডে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।