যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা
- আপডেট সময় : ০৫:১৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 34

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কহার পেয়েছে। এর ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার আওতায় পরিচালিত তদন্ত শেষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির জন্য নতুন শুল্কহার নির্ধারণ করেছে।
২৩ জুলাই ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায় আগে আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ এই সর্বনিম্ন শুল্কস্তরে স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এ অবস্থান বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের জন্য সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০১ ধারার অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আরও বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখা এবং দেশের রপ্তানি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সরকার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।





















