‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ সম্মাননায় ভূষিত কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম
- আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 16

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম ‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ সম্মাননায় ‘শিল্প ও সাহিত্য’ বিভাগে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী এবং অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা।
এবারের আয়োজনে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, উদ্যোক্তা, ক্রীড়া ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
দেশে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কথাসাহিত্য বা ‘টেক-ফিকশন’ ধারার বিকাশ এবং এ ধরনের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার প্রতি উৎসাহিত করার অবদানের জন্য রাহিতুল ইসলামকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি ও সমকালীন বাস্তবতাকে সহজ ভাষার গল্প ও উপন্যাসে তুলে ধরছেন।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সুখবর বাংলাদেশ’, ‘চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’, ‘ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া’, ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’, ‘হ্যাকার হিমেল’, ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নায়ক’ সিরিজ, ‘কল সেন্টারের অপরাজিতা’, ‘বদলে দেওয়ার গান’, ‘ভালোবাসার হাট বাজার’, ‘দুই ভুবনের মানুষ’ এবং সাম্প্রতিক আলোচিত উপন্যাস ‘বাদলের কারাবাস’। তার বেশ কয়েকটি গল্প অবলম্বনে নাটক ও টেলিফিল্মও নির্মিত হয়েছে।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় রাহিতুল ইসলাম বলেন, মানুষের কল্যাণে যে সাহিত্য ভূমিকা রাখে, সেটিই প্রকৃত সাহিত্য। তিনি তার নতুন উপন্যাস ‘বাদলের কারাবাস’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু একটি উপন্যাস নয়, বরং এক নির্দোষ মানুষের দীর্ঘ ভোগান্তির বাস্তব কাহিনি। তিনি জানান, ২০০৮ সালে ভ্রমণে গিয়ে নামের বিভ্রান্তির কারণে ভারতীয় এক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন বাদল ফরাজী। ২০১৮ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফিরলেও তিনি এখনো পুরোপুরি মুক্তি পাননি। একজন লেখক ও নাগরিক হিসেবে তিনি বাদল ফরাজীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
এবারের আয়োজনে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। এছাড়া কৃষিতে অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, শিল্প ও সংস্কৃতিতে ফরিদা আক্তার পপি (ববিতা), শিক্ষায় মনসুর আহমেদ চৌধুরী, উদ্যোক্তা বিভাগে এরশাদ উল্লাহ ও কনা আলম, পেশাজীবী বিভাগে শাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিকতায় শফিক আহমেদ, ক্রীড়ায় সাঈদ উর রব এবং সমাজসেবায় শান্তি শ্রী সম্মাননা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও কৃষি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, ‘হুজ হু বাংলাদেশ’-এর প্রধান নির্বাহী নাজিনুর রহিম, সম্পাদক লুৎফুন নাহার তাপসীসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুসরণীয় ব্যক্তিদের জীবনী প্রকাশ ও সম্মাননা প্রদান করে আসছে ‘হুজ হু’। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান।
























