হরমোনের সমস্যা কি শুধু নারীদের? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 11

হরমোনের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমেই নারীদের মাসিক, গর্ভধারণ বা মেনোপজের বিষয়গুলো আসে। ফলে অনেকের ধারণা, হরমোনজনিত সমস্যা কেবল নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, এই ধারণা সঠিক নয়। নারী-পুরুষ উভয়ের শরীরেই বিভিন্ন ধরনের হরমোন থাকে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, বিপাকক্রিয়া, ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজননক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য এগুলোর ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. সায়রা হামিদ বলেন, হরমোন শুধু নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নয়, এটি নারী ও পুরুষ—উভয়ের শরীরেই সমানভাবে প্রভাব ফেলে। যদিও নারীদের মাসিক ও মেনোপজের মতো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় হরমোনের ভূমিকা বেশি দৃশ্যমান, তবুও উভয় লিঙ্গের শরীরেই একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ হরমোন বিদ্যমান।
তিনি জানান, নারীদের শরীরে যেমন টেস্টোস্টেরন থাকে, তেমনি পুরুষদের শরীরেও ইস্ট্রোজেন থাকে। পার্থক্য শুধু হরমোনের মাত্রায়। সাধারণত পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বেশি থাকে, আর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকে।
ডা. হামিদের মতে, থাইরয়েড, কর্টিসল, ইনসুলিন কিংবা রক্তে শর্করার মতো হরমোন-সম্পর্কিত পরীক্ষার ফলাফল দেখে অনেক ক্ষেত্রেই বোঝা যায় না সেটি পুরুষের নাকি নারীর নমুনা। অর্থাৎ প্রজননসংক্রান্ত বিষয় বাদ দিলে অধিকাংশ হরমোন নারী-পুরুষ উভয়ের শরীরেই একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের প্রজনন অন্তঃস্রাববিদ্যার অধ্যাপক ডা. চান্না জয়াসেনা বলেন, টেস্টোস্টেরন থেরাপি শুধুমাত্র সেই পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য, যাদের শরীরে এই হরমোনের ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করলে এটি নিরাপদ এবং জীবনযাত্রার মান ও মানসিক সুস্থতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্টোস্টেরন বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহার করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পেশি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় এসব হরমোন গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশে প্রভাব পড়ে। এর ফলে আক্রমণাত্মক আচরণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনজনিত সমস্যা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মানসিক অস্থিরতা বা যৌনস্বাস্থ্যের পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

























