ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার ও শহীদ পরিবার পুনর্বাসনের দাবি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 33

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করেন, বিচার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। পাশাপাশি উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ এসব দাবি তুলে ধরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বজনরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, বেদনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর কখনো ফিরে আসবে না। তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো বাবা-মাকে এমন শোক বহন করতে না হয়, সে জন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, তার ভাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন এবং তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকে প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন। তিনি দ্রুত বিচার, শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা এবং সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেই কঠিন সময়ে বিভিন্ন স্থানে সহযোগিতা চাইলেও সহায়তা পাননি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতে সব শহীদ পরিবার যেন একই ধরনের সহায়তা পায় এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি দেশের জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফল। তিনি জানান, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবে এবং আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচারের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। জনগণের কল্যাণ ও দেশের অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে এবং কোনো অপশক্তি যেন সেই অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার ও শহীদ পরিবার পুনর্বাসনের দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করেন, বিচার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। পাশাপাশি উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ এসব দাবি তুলে ধরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বজনরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, বেদনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর কখনো ফিরে আসবে না। তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো বাবা-মাকে এমন শোক বহন করতে না হয়, সে জন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, তার ভাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন এবং তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকে প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন। তিনি দ্রুত বিচার, শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা এবং সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেই কঠিন সময়ে বিভিন্ন স্থানে সহযোগিতা চাইলেও সহায়তা পাননি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতে সব শহীদ পরিবার যেন একই ধরনের সহায়তা পায় এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি দেশের জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফল। তিনি জানান, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবে এবং আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচারের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। জনগণের কল্যাণ ও দেশের অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে এবং কোনো অপশক্তি যেন সেই অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।