ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

জুলাই-আগস্টে বাড়তে পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 34

জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরে সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় এনএসওয়ান (NS1) পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তার মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশেষ মেডিকেল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হবে, যা জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা, টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করলে মশার লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি ডেইলি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এটি দেশের সব চিকিৎসকের মোবাইল ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জ্বর কমে গেলেও রোগী পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক টেন-হেডেড মাইক্রোস্কোপ সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে মেডিকেল শিক্ষার কারিকুলামেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। অতীতের অবহেলার কারণে বিশেষ করে প্যাথলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি ছিল। নতুন সংযোজিত মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এখন এক সিটিংয়েই অধিক নির্ভুলভাবে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় হাসপাতালের ডিআই সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি সরকারি মালিকানায় থাকলেও আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে এবং থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ কিংবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের আদলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া আগামী ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সফর করবেন বলেও অনুষ্ঠানে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই-আগস্টে বাড়তে পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরে সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় এনএসওয়ান (NS1) পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তার মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশেষ মেডিকেল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হবে, যা জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা, টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করলে মশার লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি ডেইলি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এটি দেশের সব চিকিৎসকের মোবাইল ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জ্বর কমে গেলেও রোগী পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক টেন-হেডেড মাইক্রোস্কোপ সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে মেডিকেল শিক্ষার কারিকুলামেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। অতীতের অবহেলার কারণে বিশেষ করে প্যাথলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি ছিল। নতুন সংযোজিত মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এখন এক সিটিংয়েই অধিক নির্ভুলভাবে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় হাসপাতালের ডিআই সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি সরকারি মালিকানায় থাকলেও আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে এবং থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ কিংবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের আদলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া আগামী ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সফর করবেন বলেও অনুষ্ঠানে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।