রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের
- আপডেট সময় : ০৬:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 21

স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শেষে ছোট পর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তাকে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা জানান, রিমান্ড শেষে আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পৃক্ততাও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, রিমান্ডে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সঙ্গে জাহের আলভীর সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে দাবি করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন জাহের আলভী। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২১ জুন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জাহের আলভী বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতেন। এছাড়া বিবাহিত থাকা অবস্থায় অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।
এর আগে একই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে আফরা ইবনাত ইকরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।


























