কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রুহুল কবির রিজভীর
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 16

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী বাজেটে এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার মতে, গ্রামীণ অর্থায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নিজের কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রামীণ কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়। সে সময় কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো উদ্যোগ কৃষি খাতকে এগিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এ বৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ হলেও তা সাত থেকে আট শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষিভিত্তিক। তাই এ খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ ও নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষির কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ব্যাহত হতে পারে।
সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কৃষিবিদ বের হচ্ছেন। তাদের মেধা ও গবেষণার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতের সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেন। তার মতে, আলুর পাশাপাশি ফল ও সবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের প্রযুক্তি দেশে চালু করা গেলে মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হবে না। একই সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামাল দেশে সীমিত হলেও কৃষিই বাংলাদেশের প্রধান শিল্পভিত্তি হতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে এসব দেশ উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশেও এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাত দুর্বল হলে খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতিসহ সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারের নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ, গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক জনবল তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।


























