বন্যপ্রাণী পাচারে সক্রিয় সিন্ডিকেট, জীববৈচিত্র্যের জন্য বাড়ছে বড় হুমকি
- আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 19

বন্যপ্রাণী ও পাখি পাচারের ক্রমবর্ধমান ঘটনা দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; বরং প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর সংঘটিত একটি সংগঠিত অপরাধ।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজীপুরের বনাঞ্চল থেকে ফাঁদ পেতে ময়না, টিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ধরে অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে বিপন্ন প্রজাতির রিংটেইল লেমুর চুরি ও বিদেশে পাচারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বন্যপ্রাণী পাচারের পেছনে সংঘবদ্ধ দেশি-বিদেশি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক অভিযানে গাজীপুর থেকে ১৫টি ময়না ও একটি টিয়া পাখি উদ্ধার এবং দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বৃহৎ পাচার নেটওয়ার্কের খুবই ছোট একটি অংশ মাত্র।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে পাচারকারীরা নতুন বাজার তৈরি করছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিরল পাখি ও প্রাণীর ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও মিনি চিড়িয়াখানা কিংবা বৈধ পাখি ব্যবসার আড়ালেও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যপ্রাণী পাচারকে সাধারণ চোরাচালান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একটি প্রাণীকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া মানে শুধু একটি জীবনের ক্ষতি নয়, পুরো পরিবেশব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণী জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার অনুপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে দুর্লভ রিংটেইল লেমুর চুরির ঘটনাকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। একটি সংরক্ষিত স্থাপনা থেকে এমন প্রাণী পাচার হওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও পাচারকারী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিআইডি এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে এবং পাচার হওয়া প্রাণী উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে, তবুও শুধু কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পাচার সিন্ডিকেটের মূল হোতা, অর্থের উৎস ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাঁচাবন্দি পাখি বা বন্যপ্রাণী পালনের প্রতি মানুষের আগ্রহও এ ধরনের অবৈধ ব্যবসাকে উৎসাহিত করছে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগ, সীমান্ত ও বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার, অনলাইন বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ এবং পাচার চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
























