২৫ কোটি গাছ রোপণ কর্মসূচি থেকে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 33

দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট উৎপাদন করে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারে বলে সরকারের জলবায়ু অর্থায়ন সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত এই উদ্যোগকে দেশের জন্য সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
গত ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছর মেয়াদি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো বৃহৎ পরিসরে বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন শোষণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি থেকে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শুধু বৃক্ষরোপণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করতে পারবে।
কার্বন ক্রেডিট হলো এমন একটি স্বীকৃত একক, যা এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস, অপসারণ বা প্রতিরোধের প্রতিনিধিত্ব করে। এসব ক্রেডিট আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান তাদের কার্বন নির্গমন ক্ষতিপূরণ করে থাকে।
অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি এই কর্মসূচির পরিবেশগত সুফলও ব্যাপক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ফলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টিপাতের ভারসাম্য উন্নয়ন, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে দেশের বাস্তুতন্ত্র আরও সহনশীল হয়ে উঠবে।
বিশ্বব্যাপী কার্বন বাজারের আকারও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক কার্বন মূল্য নির্ধারণ বাজার থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০৫০ সালের মধ্যে এই বাজারের আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে বাংলাদেশকে আরও প্রস্তুতি নিতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে কার্বন ক্রেডিট ইস্যু ও বাণিজ্যের জন্য শক্তিশালী আইনগত কাঠামো, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পর্যবেক্ষণ ও যাচাই ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কার্বন বাজারে সফলতার নজির তৈরি করেছে। ২০০৬ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিসিওএল) দেশের প্রথম ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) প্রকল্প নিবন্ধন করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি সৌরবিদ্যুৎ ও উন্নত চুলা প্রকল্পের মাধ্যমে ২.৫৩ মিলিয়ন কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে ১৬.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।





















