আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 36

দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, ইলিশ সম্পদের টেকসই সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে বিজ্ঞানভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বিচরণ নিশ্চিত করতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পানির গুণগত মান সংরক্ষণ অপরিহার্য। শিল্পবর্জ্য ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নদীতে ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাটকা নিধন, মা ইলিশ শিকার এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ জালের ব্যবহার শুধু ইলিশ নয়, দেশের অন্যান্য দেশীয় মাছের অস্তিত্বের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে এসব কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলে এখনও দাদননির্ভর জীবনযাপন করেন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে হয়। ফলে বাংলাদেশের ইলিশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি ইলিশকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং গবেষণায় আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। গবেষণার মাধ্যমে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলেদের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।





















