ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে আরও দুই বছর লাগবে, সতর্ক করলেন অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 37

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে আগামী দুই বছরকে চ্যালেঞ্জিং সময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে। এরপর ধীরে ধীরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে সমৃদ্ধির পথে এগোবে বাংলাদেশ।

সোমবার (২২ জুন) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ক এক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় জনগণকে আরও দুই বছর ধৈর্য ধরতে হবে। সরকারের সীমিত সম্পদের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে অর্থনীতির বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগবে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে সুসংহত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে অন্তত দুই বছর প্রয়োজন। তার আশা, তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটেও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন। আগামী দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করেন। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে একটি স্বাধীন, পেশাদার এবং অরাজনৈতিক কমিশন কাজ করছে। এই কমিশন বাজারের বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা চলছে।

অর্থমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্যে জটিলতা কমাতে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নে নানা বাধা আসবে, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে সরকার প্রস্তুত। যারা এই পরিবর্তনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের জন্য কোনো ছাড় থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আয়কর কাঠামো নিয়েও মতামত দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং সম্পদ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত আয়কর কাঠামো কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ‘রিগ্রেসিভ’ বা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে তার মনে হয়েছে।

তার মতে, পূর্বে বিদ্যমান ৫ শতাংশ করহারটি বহাল রাখা হলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতো। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে আরও দুই বছর লাগবে, সতর্ক করলেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে আগামী দুই বছরকে চ্যালেঞ্জিং সময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে। এরপর ধীরে ধীরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে সমৃদ্ধির পথে এগোবে বাংলাদেশ।

সোমবার (২২ জুন) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ক এক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় জনগণকে আরও দুই বছর ধৈর্য ধরতে হবে। সরকারের সীমিত সম্পদের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে অর্থনীতির বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগবে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে সুসংহত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে অন্তত দুই বছর প্রয়োজন। তার আশা, তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটেও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন। আগামী দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করেন। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে একটি স্বাধীন, পেশাদার এবং অরাজনৈতিক কমিশন কাজ করছে। এই কমিশন বাজারের বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা চলছে।

অর্থমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্যে জটিলতা কমাতে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নে নানা বাধা আসবে, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে সরকার প্রস্তুত। যারা এই পরিবর্তনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের জন্য কোনো ছাড় থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আয়কর কাঠামো নিয়েও মতামত দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং সম্পদ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত আয়কর কাঠামো কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ‘রিগ্রেসিভ’ বা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে তার মনে হয়েছে।

তার মতে, পূর্বে বিদ্যমান ৫ শতাংশ করহারটি বহাল রাখা হলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতো। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।