খেলাপি ঋণ বেড়ে ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি ও লোকসানের ঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 4

জালিয়াতি ও পাচার হওয়া ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঋণ বিতরণ এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে এসব ঋণ এখন আর আয় সৃষ্টি করছে না, বরং ব্যাংকগুলোর বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক উদ্যোক্তা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামোও ভেঙে পড়েছে—২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে যেখানে মূলধন ছিল ৩.০৮ শতাংশ, তা ২০২৫ সালে নেমে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকসহ ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক বেশি। পাঁচটি ব্যাংকেই রয়েছে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫২ শতাংশ, যা পুরো খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এছাড়া অনেক ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় আদায়ের সম্ভাবনাও কমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান কমে গিয়ে আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর সম্পদ থেকে আয় ঋণাত্মক ৪.৪১ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে মূলধন থেকেও বড় ধরনের লোকসান হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

























