ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রেম-রোমান্সনির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থের রিট শেখ হাসিনার আমলে বিরোধীদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না: রিজভী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / 67

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছেন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি, কমে গেছে নতুন শ্রমিক নিয়োগও। এতে প্রবাসী আয় ও দেশের অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা মোহাম্মদ মোর্শেদ চার বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করে পরিবার চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর ব্যবসা কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

মোর্শেদ জানান, যুদ্ধের কারণে হামলা ও নিরাপত্তা আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় মালিক রেস্তোরাঁ বন্ধ করে কর্মচারীদের দেশে পাঠিয়ে দেন। এখনো আবার কাজে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

শুধু মোর্শেদ নন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশি একই সংকটে পড়েছেন। কোথাও ব্যবসা কমে গেছে, কোথাও কর্মী ছাঁটাই চলছে। নির্মাণখাতেও কাজ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, গত এক বছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯৫ হাজার বাংলাদেশি বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যমুখী। তবে যুদ্ধ শুরুর পর সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে অনেকে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছেন, আবার নতুন কর্মীদের বিদেশযাত্রাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। ফলে এই অঞ্চলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর দিকে গুরুত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সরকারও স্বীকার করেছে যে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হলেও বিকল্প বাজার তৈরিতে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি হয়েছে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন বাজার তৈরি করতে না পারলে ভবিষ্যতে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছেন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি, কমে গেছে নতুন শ্রমিক নিয়োগও। এতে প্রবাসী আয় ও দেশের অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা মোহাম্মদ মোর্শেদ চার বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করে পরিবার চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর ব্যবসা কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

মোর্শেদ জানান, যুদ্ধের কারণে হামলা ও নিরাপত্তা আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় মালিক রেস্তোরাঁ বন্ধ করে কর্মচারীদের দেশে পাঠিয়ে দেন। এখনো আবার কাজে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

শুধু মোর্শেদ নন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশি একই সংকটে পড়েছেন। কোথাও ব্যবসা কমে গেছে, কোথাও কর্মী ছাঁটাই চলছে। নির্মাণখাতেও কাজ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, গত এক বছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯৫ হাজার বাংলাদেশি বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যমুখী। তবে যুদ্ধ শুরুর পর সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে অনেকে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছেন, আবার নতুন কর্মীদের বিদেশযাত্রাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। ফলে এই অঞ্চলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর দিকে গুরুত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সরকারও স্বীকার করেছে যে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হলেও বিকল্প বাজার তৈরিতে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি হয়েছে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন বাজার তৈরি করতে না পারলে ভবিষ্যতে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।