ওয়াকফ সম্পত্তিতে অনিয়ম বন্ধে কঠোর সরকার, বাড়বে বাজারদর অনুযায়ী ভাড়া
- আপডেট সময় : ০৬:৩১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 96

ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাটের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং যেসব উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর।
ধর্মমন্ত্রীর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিপুল পরিমাণ এই সম্পত্তির বড় অংশ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ বছরে যথাযথ তদারকি না থাকায় ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
তিনি বলেন, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য যেসব ব্যক্তি সম্পত্তি দান করেছেন, সেই উদ্দেশ্য যেন ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় সরকার সেটিই নিশ্চিত করতে চায়। একই সঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যয় করা হবে এবং দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না।
ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট একটি ওয়াকফ স্টেট, যেখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে রয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম।
তিনি আরও বলেন, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর আওতাধীন একটি দোকানের ভাড়া আগে ছিল ৩৫ হাজার টাকা। পরে ২০২৫ সালে দোকানটি নতুনভাবে ভাড়া দিলে মাসিক ভাড়া বেড়ে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় পৌঁছায়। এতে বোঝা যায়, বহু ওয়াকফ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ধর্মমন্ত্রী জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে প্রকৃত আয় আদায় করা হচ্ছে না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন এসব সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসকদের ইতোমধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।























