ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের পর যা জানাল র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / 263

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মামলার পর গাজীপুরের টঙ্গী এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বুধবার ভোরে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাব-১৪ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তেমন কোনো তথ্য দেননি। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কথা রয়েছে, এবং পুলিশ প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। তার বাবা সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল তাকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ২৩ এপ্রিল তার মা থানায় মামলা করেন।

মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসককে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। র‍্যাব জানিয়েছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ডিএনএ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয় বলেও র‍্যাব জানিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের পর যা জানাল র‍্যাব

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মামলার পর গাজীপুরের টঙ্গী এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বুধবার ভোরে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাব-১৪ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তেমন কোনো তথ্য দেননি। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কথা রয়েছে, এবং পুলিশ প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। তার বাবা সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল তাকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ২৩ এপ্রিল তার মা থানায় মামলা করেন।

মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসককে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। র‍্যাব জানিয়েছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ডিএনএ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয় বলেও র‍্যাব জানিয়েছে।