ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ ভারতের আমদানিকারকদের বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ দেশে সারের সংকট নেই, মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের পর যা জানাল র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / 209

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মামলার পর গাজীপুরের টঙ্গী এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বুধবার ভোরে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাব-১৪ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তেমন কোনো তথ্য দেননি। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কথা রয়েছে, এবং পুলিশ প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। তার বাবা সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল তাকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ২৩ এপ্রিল তার মা থানায় মামলা করেন।

মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসককে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। র‍্যাব জানিয়েছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ডিএনএ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয় বলেও র‍্যাব জানিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের পর যা জানাল র‍্যাব

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মামলার পর গাজীপুরের টঙ্গী এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বুধবার ভোরে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাব-১৪ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তেমন কোনো তথ্য দেননি। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কথা রয়েছে, এবং পুলিশ প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। তার বাবা সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল তাকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ২৩ এপ্রিল তার মা থানায় মামলা করেন।

মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসককে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। র‍্যাব জানিয়েছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ডিএনএ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয় বলেও র‍্যাব জানিয়েছে।