ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং নেই, স্বস্তিতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

রিফাতুজ্জামান প্রিন্স
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 60

দেশে টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকায় স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত সময়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষিখাতে সেচের প্রয়োজন কমে যায়। এতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ কমে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে। আগে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে ঘাটতি থাকলেও এখন তা নেই। সামনের দিনগুলোতেও শূন্য লোডশেডিং বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৫, ১১ হাজার ৩৬ এবং ১২ হাজার ৬১৪ মেগাওয়াট।

মে মাসের শুরুতেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১, ২ ও ৩ মে চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৪৬২, ১১ হাজার ৯২ এবং ১২ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট, যা পূরণ করা হয়েছে পুরোপুরি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চালানোর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়াও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের মতে, গত এক সপ্তাহে কোথাও লোডশেডিং দেখা যায়নি, যা দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ বা কারিগরি কারণে কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে, যা লোডশেডিং হিসেবে গণ্য হবে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং নেই, স্বস্তিতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

দেশে টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকায় স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত সময়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষিখাতে সেচের প্রয়োজন কমে যায়। এতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ কমে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে। আগে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে ঘাটতি থাকলেও এখন তা নেই। সামনের দিনগুলোতেও শূন্য লোডশেডিং বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৫, ১১ হাজার ৩৬ এবং ১২ হাজার ৬১৪ মেগাওয়াট।

মে মাসের শুরুতেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১, ২ ও ৩ মে চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৪৬২, ১১ হাজার ৯২ এবং ১২ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট, যা পূরণ করা হয়েছে পুরোপুরি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চালানোর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়াও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের মতে, গত এক সপ্তাহে কোথাও লোডশেডিং দেখা যায়নি, যা দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ বা কারিগরি কারণে কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে, যা লোডশেডিং হিসেবে গণ্য হবে না।