ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং নেই, স্বস্তিতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

রিফাতুজ্জামান প্রিন্স
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 85

দেশে টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকায় স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত সময়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষিখাতে সেচের প্রয়োজন কমে যায়। এতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ কমে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে। আগে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে ঘাটতি থাকলেও এখন তা নেই। সামনের দিনগুলোতেও শূন্য লোডশেডিং বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৫, ১১ হাজার ৩৬ এবং ১২ হাজার ৬১৪ মেগাওয়াট।

মে মাসের শুরুতেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১, ২ ও ৩ মে চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৪৬২, ১১ হাজার ৯২ এবং ১২ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট, যা পূরণ করা হয়েছে পুরোপুরি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চালানোর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়াও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের মতে, গত এক সপ্তাহে কোথাও লোডশেডিং দেখা যায়নি, যা দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ বা কারিগরি কারণে কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে, যা লোডশেডিং হিসেবে গণ্য হবে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং নেই, স্বস্তিতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

দেশে টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিং ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকায় স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত সময়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষিখাতে সেচের প্রয়োজন কমে যায়। এতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ কমে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে। আগে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে ঘাটতি থাকলেও এখন তা নেই। সামনের দিনগুলোতেও শূন্য লোডশেডিং বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৫, ১১ হাজার ৩৬ এবং ১২ হাজার ৬১৪ মেগাওয়াট।

মে মাসের শুরুতেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১, ২ ও ৩ মে চাহিদা ছিল ১০ হাজার ৪৬২, ১১ হাজার ৯২ এবং ১২ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট, যা পূরণ করা হয়েছে পুরোপুরি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চালানোর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়াও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের মতে, গত এক সপ্তাহে কোথাও লোডশেডিং দেখা যায়নি, যা দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ বা কারিগরি কারণে কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে, যা লোডশেডিং হিসেবে গণ্য হবে না।