নতুন কর কাঠামোয় বাড়বে করের চাপ, করমুক্ত আয়সীমায় বড় পরিবর্তন নেই
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 96

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কর কাঠামোয় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে করহার ও স্ল্যাব পুনর্বিন্যাসের ফলে আয় অপরিবর্তিত থাকলেও অধিকাংশ করদাতাকে আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হতে পারে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর আরোপ করা হবে। পরবর্তী ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, এরপর ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ, এরপর ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ এবং বাকি আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে।
আগের কাঠামোর তুলনায় কর স্ল্যাবের সংখ্যা সাত থেকে কমিয়ে ছয় করা হয়েছে এবং প্রতিটি স্তরে করহার গড়ে ৫ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাসহ উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরাও বাড়তি করের আওতায় পড়বেন।
উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় যদি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা হয়, তবে করমুক্ত সীমা বাদ দেওয়ার পর তার করযোগ্য আয় দাঁড়ায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। নতুন করহারে তাকে ১০ শতাংশ হিসেবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে। আগে একই আয়ে করের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় প্রায় আড়াই হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।
তবে নতুন করদাতাদের জন্য কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। যারা প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করবেন, তারা আয়ভেদে সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কর পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
এদিকে সারচার্জের পরিবর্তে ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। ব্যক্তির নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তির ওপর মৌজা দরের ভিত্তিতে এ কর নির্ধারণ করা হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের উচ্চমূল্যের এলাকায় বসবাসকারী ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা আনা এবং বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকায় এবং করহার বাড়ায় সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপ বাড়বে বলে বিশ্লেষকদের মত।


























