ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হাম আতঙ্ক: জ্বর ও র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভিড়, সতর্কতা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 184

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বর্তমানে শিশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এ রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, লালচে ও পানিপূর্ণ চোখ এবং সারা শরীরে লাল দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথমে মুখ ও কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দিন স্থায়ী থাকে।

সম্প্রতি জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ নিয়ে অভিভাবকরা শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব শিশুর অনেকের মধ্যেই হাম শনাক্ত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং কিছু শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম শ্বাসনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত শিশুর শরীরে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা চোখের সমস্যা থেকে শুরু করে রাতকানা এমনকি অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকেরা জানান, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগ খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্তত পাঁচ দিন আলাদা রাখা প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি, তীব্র ডায়রিয়া বা চোখ-মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

শিশুর শরীরে জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে সেটি হাম হোক বা না হোক, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিশুর স্বাভাবিক খাবার ও যত্ন চালিয়ে যেতে হবে।

হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও পানি পড়া, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ, এবং পরবর্তীতে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া। এছাড়া শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দাও দেখা দিতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হাম আতঙ্ক: জ্বর ও র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভিড়, সতর্কতা জরুরি

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বর্তমানে শিশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এ রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, লালচে ও পানিপূর্ণ চোখ এবং সারা শরীরে লাল দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথমে মুখ ও কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দিন স্থায়ী থাকে।

সম্প্রতি জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ নিয়ে অভিভাবকরা শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব শিশুর অনেকের মধ্যেই হাম শনাক্ত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং কিছু শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম শ্বাসনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত শিশুর শরীরে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা চোখের সমস্যা থেকে শুরু করে রাতকানা এমনকি অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকেরা জানান, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগ খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্তত পাঁচ দিন আলাদা রাখা প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি, তীব্র ডায়রিয়া বা চোখ-মস্তিষ্কে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

শিশুর শরীরে জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে সেটি হাম হোক বা না হোক, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিশুর স্বাভাবিক খাবার ও যত্ন চালিয়ে যেতে হবে।

হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও পানি পড়া, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ, এবং পরবর্তীতে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া। এছাড়া শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দাও দেখা দিতে পারে।