ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন এমপি ফজলুল হক মিলন টানা ৫ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বর্ষণের শঙ্কা ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানারও যোগ্য?’— রাশেদ খাঁনের কড়া প্রশ্ন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের গ্রেফতারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ হরমুজ প্রণালি খুলতে ওমানকে নতুন প্রস্তাব ইরানের, না মানলে বন্ধই থাকবে নৌপথ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার, শেষ হলো ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায় ‘ধুম ফোর’ নিয়ে মুখ খুললেন রণবীর কাপুর, গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন অভিনেতা সীমান্ত ব্যাংকে ‘কল সেন্টার সুপারভাইজার’ পদে নিয়োগ, আবেদন ৪ আগস্ট পর্যন্ত শ্যোন অ্যারেস্টে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, চার সপ্তাহে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের গ্যাস সংকটে রাজধানীতে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকরা

সীমান্তে কুমির-সাপ মোতায়েনের পরিকল্পনা! ভারতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 27

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিতর্কিত এক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স নদীমাতৃক ও দুর্গম এলাকায় ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত ইউনিটগুলোকে নদী ও জলাভূমি এলাকায় হিংস্র সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অমিত শাহ-এর নির্দেশনায় এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ, যার বড় অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অংশ দিয়েই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা বেশি ঘটে।

তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে অমানবিক ও বিপজ্জনক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কুমির বা সাপ কোনোভাবেই অপরাধী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না, ফলে নিরীহ মানুষও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন, অস্থানীয় প্রাণী ব্যবহার করলে তা দ্রুত মারা যেতে পারে এবং বন্যার সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের মানুষের জন্য মারাত্মক বিপদ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আধুনিক বিশ্বে সীমান্ত নিরাপত্তায় বন্যপ্রাণীকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের কোনো নজির নেই বলেই তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিএসএফের ভেতরেও এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও ঊর্ধ্বতন নির্দেশনায় বর্তমানে বিষয়টি মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সীমান্তে কুমির-সাপ মোতায়েনের পরিকল্পনা! ভারতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিতর্কিত এক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স নদীমাতৃক ও দুর্গম এলাকায় ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত ইউনিটগুলোকে নদী ও জলাভূমি এলাকায় হিংস্র সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অমিত শাহ-এর নির্দেশনায় এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ, যার বড় অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অংশ দিয়েই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা বেশি ঘটে।

তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে অমানবিক ও বিপজ্জনক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কুমির বা সাপ কোনোভাবেই অপরাধী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না, ফলে নিরীহ মানুষও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন, অস্থানীয় প্রাণী ব্যবহার করলে তা দ্রুত মারা যেতে পারে এবং বন্যার সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের মানুষের জন্য মারাত্মক বিপদ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আধুনিক বিশ্বে সীমান্ত নিরাপত্তায় বন্যপ্রাণীকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের কোনো নজির নেই বলেই তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিএসএফের ভেতরেও এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও ঊর্ধ্বতন নির্দেশনায় বর্তমানে বিষয়টি মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হচ্ছে।