রূপপুরে উন্মোচন হচ্ছে নতুন অধ্যায়, শুরু পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগ
- আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 94

দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি প্রস্তুতির পর অবশেষে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র–এর প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
করোনা মহামারি ও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের কারণে বহুবার পিছিয়ে যাওয়া এই প্রকল্প এখন চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। গত ১৬ এপ্রিল চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়া যায়।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময় স্বল্পতার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কেউই উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কারিগরি মানদণ্ড পূরণের কারণে এর আগে কয়েকবার জ্বালানি লোডিং পিছিয়ে যায়। তবে এবার সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রথম ইউনিট সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। এই কার্যক্রমে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞও অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। আর পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এই ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীতে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। পুরো প্রকল্প চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২৪০০ মেগাওয়াট, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করবে।





















