ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
পোশাক শ্রমিকদের দাবি ঘিরে রোববার গঠন হচ্ছে নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার: বাবার হত্যা মামলা, বন্ধুর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন এইচএসসি পাস করা সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে

কক্সবাজার–চট্টগ্রামে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট নাও হতো: সেনাপ্রধানের মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 149

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি নাও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়াতেও প্রয়োজন পর্যাপ্ত সামরিক প্রস্তুতি ও আধুনিক সরঞ্জাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কোর্সে ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ছিলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার জানা ও বোঝার অধিকার রয়েছে। দেশের অর্থনীতি আমদানি-রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত আধুনিক টহল জাহাজ না থাকায় বর্তমানে ছোট জাহাজ দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও অকার্যকর।

একইভাবে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয় না করায় আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল রয়েছে বলে জানান সেনাপ্রধান। তার মতে, উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকটের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, সময়মতো বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয় যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং তা প্রতিরোধ করার জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাপ্রধান জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা না থাকলে সেটি কখনোই উন্নতি করতে পারে না। তাই সামরিক বাহিনীকেও সবসময় জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।

বক্তব্যে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। দেশে পর্যাপ্ত তেল শোধনাগার না থাকায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। বর্তমানে দেশের একমাত্র শোধনাগার চাহিদার অল্প অংশ পূরণ করতে পারে, ফলে অধিকাংশ জ্বালানি উচ্চ মূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন শোধনাগার স্থাপন করা হয়নি, যার ফলে সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করার সুযোগও সীমিত রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজার–চট্টগ্রামে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট নাও হতো: সেনাপ্রধানের মন্তব্য

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি নাও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়াতেও প্রয়োজন পর্যাপ্ত সামরিক প্রস্তুতি ও আধুনিক সরঞ্জাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কোর্সে ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ছিলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার জানা ও বোঝার অধিকার রয়েছে। দেশের অর্থনীতি আমদানি-রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত আধুনিক টহল জাহাজ না থাকায় বর্তমানে ছোট জাহাজ দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও অকার্যকর।

একইভাবে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয় না করায় আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল রয়েছে বলে জানান সেনাপ্রধান। তার মতে, উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকটের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, সময়মতো বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয় যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং তা প্রতিরোধ করার জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাপ্রধান জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা না থাকলে সেটি কখনোই উন্নতি করতে পারে না। তাই সামরিক বাহিনীকেও সবসময় জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।

বক্তব্যে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। দেশে পর্যাপ্ত তেল শোধনাগার না থাকায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। বর্তমানে দেশের একমাত্র শোধনাগার চাহিদার অল্প অংশ পূরণ করতে পারে, ফলে অধিকাংশ জ্বালানি উচ্চ মূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন শোধনাগার স্থাপন করা হয়নি, যার ফলে সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করার সুযোগও সীমিত রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।