ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রেম-রোমান্সনির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থের রিট শেখ হাসিনার আমলে বিরোধীদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না: রিজভী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য ট্রাম্পের দাবি, ‘চাঁদ আমাদের’; মহাকাশ থেকে নিউ মেক্সিকো—নাম বদলের হিড়িক মেসির গোলেও জয় পেল না মিয়ামি, ন্যাশভিলের সঙ্গে ২-২ ড্র আমিশা প্যাটেলের মায়ের বাড়িতে ৫ লাখ রুপির গয়না চুরি, গৃহকর্মী গ্রেফতার

কক্সবাজার–চট্টগ্রামে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট নাও হতো: সেনাপ্রধানের মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 77

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি নাও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়াতেও প্রয়োজন পর্যাপ্ত সামরিক প্রস্তুতি ও আধুনিক সরঞ্জাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কোর্সে ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ছিলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার জানা ও বোঝার অধিকার রয়েছে। দেশের অর্থনীতি আমদানি-রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত আধুনিক টহল জাহাজ না থাকায় বর্তমানে ছোট জাহাজ দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও অকার্যকর।

একইভাবে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয় না করায় আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল রয়েছে বলে জানান সেনাপ্রধান। তার মতে, উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকটের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, সময়মতো বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয় যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং তা প্রতিরোধ করার জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাপ্রধান জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা না থাকলে সেটি কখনোই উন্নতি করতে পারে না। তাই সামরিক বাহিনীকেও সবসময় জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।

বক্তব্যে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। দেশে পর্যাপ্ত তেল শোধনাগার না থাকায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। বর্তমানে দেশের একমাত্র শোধনাগার চাহিদার অল্প অংশ পূরণ করতে পারে, ফলে অধিকাংশ জ্বালানি উচ্চ মূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন শোধনাগার স্থাপন করা হয়নি, যার ফলে সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করার সুযোগও সীমিত রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজার–চট্টগ্রামে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট নাও হতো: সেনাপ্রধানের মন্তব্য

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি নাও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়াতেও প্রয়োজন পর্যাপ্ত সামরিক প্রস্তুতি ও আধুনিক সরঞ্জাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কোর্সে ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ছিলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার জানা ও বোঝার অধিকার রয়েছে। দেশের অর্থনীতি আমদানি-রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত আধুনিক টহল জাহাজ না থাকায় বর্তমানে ছোট জাহাজ দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও অকার্যকর।

একইভাবে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয় না করায় আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল রয়েছে বলে জানান সেনাপ্রধান। তার মতে, উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকটের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, সময়মতো বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয় যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং তা প্রতিরোধ করার জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাপ্রধান জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা না থাকলে সেটি কখনোই উন্নতি করতে পারে না। তাই সামরিক বাহিনীকেও সবসময় জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে।

বক্তব্যে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। দেশে পর্যাপ্ত তেল শোধনাগার না থাকায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। বর্তমানে দেশের একমাত্র শোধনাগার চাহিদার অল্প অংশ পূরণ করতে পারে, ফলে অধিকাংশ জ্বালানি উচ্চ মূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন শোধনাগার স্থাপন করা হয়নি, যার ফলে সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করার সুযোগও সীমিত রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।