ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

ভিউয়ের নেশায় তরুণ প্রজন্ম, সামাজিক মাধ্যমে বাড়ছে নীরব সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 63

সামাজিক মাধ্যমে ‘আরেকটু দেখি’—এই ভাবনাই এখন অনেক তরুণকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখছে। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি এক ধরনের সমান্তরাল জগতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ভিউ, লাইক ও অনুসরণকারীর সংখ্যা দিয়েই মানুষের মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে একটি প্রজন্ম নীরব সংকটে জড়িয়ে পড়ছে।

রাফি হাসানের মতো অসংখ্য তরুণ রাত গভীর পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন, যদিও পরদিন তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে। থামতে চাইলেও তারা যেন এক অদৃশ্য টানে বারবার ফিরে আসছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কে আনন্দ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যা মানুষকে বারবার একই কাজ করতে প্রলুব্ধ করে।

গত এক দশকে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়বস্তু তৈরি করা একটি জনপ্রিয় পেশায় পরিণত হয়েছে। ভাইরাল হওয়া বা বেশি মানুষের নজরে আসার আকাঙ্ক্ষা অনেককে নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করতে বাধ্য করছে। অপরিচিত মানুষকে বিব্রত করা, ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করা কিংবা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে উসকানিমূলক উপস্থাপন—এসব এখন অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে উদ্বেগ, হতাশা ও আত্মপরিচয়ের সংকটের সম্পর্ক রয়েছে। দিনে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং বাস্তব জীবনের কাজের প্রতি আগ্রহ হারানোর প্রবণতাও বাড়ছে।

বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে কাটাচ্ছেন। এর ফলে পড়াশোনা, কাজ ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে অন্যের সাজানো জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবন তুলনা করে অনেকেই হীনম্মন্যতায় ভুগছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে ‘মিডিয়া ডায়েট’ বা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং নেতিবাচক বিষয়বস্তু এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

সবশেষে বলা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যম নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। তাই তরুণদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি স্ক্রিনের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটিকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব জীবনে এগিয়ে যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিউয়ের নেশায় তরুণ প্রজন্ম, সামাজিক মাধ্যমে বাড়ছে নীরব সংকট

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সামাজিক মাধ্যমে ‘আরেকটু দেখি’—এই ভাবনাই এখন অনেক তরুণকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখছে। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি এক ধরনের সমান্তরাল জগতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ভিউ, লাইক ও অনুসরণকারীর সংখ্যা দিয়েই মানুষের মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে একটি প্রজন্ম নীরব সংকটে জড়িয়ে পড়ছে।

রাফি হাসানের মতো অসংখ্য তরুণ রাত গভীর পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন, যদিও পরদিন তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে। থামতে চাইলেও তারা যেন এক অদৃশ্য টানে বারবার ফিরে আসছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কে আনন্দ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যা মানুষকে বারবার একই কাজ করতে প্রলুব্ধ করে।

গত এক দশকে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়বস্তু তৈরি করা একটি জনপ্রিয় পেশায় পরিণত হয়েছে। ভাইরাল হওয়া বা বেশি মানুষের নজরে আসার আকাঙ্ক্ষা অনেককে নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করতে বাধ্য করছে। অপরিচিত মানুষকে বিব্রত করা, ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করা কিংবা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে উসকানিমূলক উপস্থাপন—এসব এখন অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে উদ্বেগ, হতাশা ও আত্মপরিচয়ের সংকটের সম্পর্ক রয়েছে। দিনে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং বাস্তব জীবনের কাজের প্রতি আগ্রহ হারানোর প্রবণতাও বাড়ছে।

বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে কাটাচ্ছেন। এর ফলে পড়াশোনা, কাজ ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে অন্যের সাজানো জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবন তুলনা করে অনেকেই হীনম্মন্যতায় ভুগছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে ‘মিডিয়া ডায়েট’ বা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং নেতিবাচক বিষয়বস্তু এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

সবশেষে বলা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যম নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। তাই তরুণদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি স্ক্রিনের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটিকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব জীবনে এগিয়ে যাবে।