ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সীমান্তে কুমির-সাপ মোতায়েনের পরিকল্পনা! ভারতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 84

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিতর্কিত এক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স নদীমাতৃক ও দুর্গম এলাকায় ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত ইউনিটগুলোকে নদী ও জলাভূমি এলাকায় হিংস্র সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অমিত শাহ-এর নির্দেশনায় এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ, যার বড় অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অংশ দিয়েই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা বেশি ঘটে।

তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে অমানবিক ও বিপজ্জনক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কুমির বা সাপ কোনোভাবেই অপরাধী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না, ফলে নিরীহ মানুষও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন, অস্থানীয় প্রাণী ব্যবহার করলে তা দ্রুত মারা যেতে পারে এবং বন্যার সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের মানুষের জন্য মারাত্মক বিপদ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আধুনিক বিশ্বে সীমান্ত নিরাপত্তায় বন্যপ্রাণীকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের কোনো নজির নেই বলেই তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিএসএফের ভেতরেও এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও ঊর্ধ্বতন নির্দেশনায় বর্তমানে বিষয়টি মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সীমান্তে কুমির-সাপ মোতায়েনের পরিকল্পনা! ভারতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিতর্কিত এক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স নদীমাতৃক ও দুর্গম এলাকায় ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত ইউনিটগুলোকে নদী ও জলাভূমি এলাকায় হিংস্র সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অমিত শাহ-এর নির্দেশনায় এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ, যার বড় অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অংশ দিয়েই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা বেশি ঘটে।

তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে অমানবিক ও বিপজ্জনক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কুমির বা সাপ কোনোভাবেই অপরাধী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না, ফলে নিরীহ মানুষও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন, অস্থানীয় প্রাণী ব্যবহার করলে তা দ্রুত মারা যেতে পারে এবং বন্যার সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের মানুষের জন্য মারাত্মক বিপদ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আধুনিক বিশ্বে সীমান্ত নিরাপত্তায় বন্যপ্রাণীকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের কোনো নজির নেই বলেই তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিএসএফের ভেতরেও এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও ঊর্ধ্বতন নির্দেশনায় বর্তমানে বিষয়টি মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হচ্ছে।