ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বৃষ্টিতে ভেজা কি সত্যিই ক্ষতিকর? বিজ্ঞান কী বলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 51

বছরের প্রথম বৃষ্টি নামলে বাঙালির মনে এক ধরনের উদাস অনুভূতি তৈরি হয়। গ্রীষ্মের তীব্র গরমের পর আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে অনেকেই এখনো অপু–দুর্গার মতো ভিজে যাওয়ার আনন্দ খুঁজে পান। বৃষ্টির পর মাটি থেকে ওঠা সোঁদা গন্ধও মানুষের মনে আলাদা অনুভূতি জাগায়। তবে প্রশ্ন হলো—বৃষ্টির পানি কি সত্যিই বিশুদ্ধ? আর বৃষ্টিতে ভিজলে কি অসুখ হতে পারে?

বিজ্ঞান বলছে, বৃষ্টির পানিতে সাধারণত সরাসরি জীবাণু বা ভাইরাস থাকে না। তাই বৃষ্টিতে ভিজলেই ঠান্ডা লাগে—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় থাকলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল করে দিতে পারে। এতে ঠান্ডা বা অন্য অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়, বৃষ্টি পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। খরতাপের পর বৃষ্টি বাতাসের ধুলা ও দূষণ কমাতে সাহায্য করে। এতে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হয় এবং শ্বাস নেওয়াও সহজ হয়।

বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের মানসিক অবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, বৃষ্টির সময় বাতাসে নেগেটিভ আয়ন বাড়ে, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়িয়ে মানসিক প্রশান্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই বৃষ্টি অনেকের কাছে স্ট্রেস কমানোর একটি প্রাকৃতিক মাধ্যম।

ত্বক ও চুলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টির পানি তুলনামূলকভাবে কোমল। এর পিএইচ সাধারণত ত্বকের কাছাকাছি হওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করে না। তবে শহরের দূষিত পরিবেশে বৃষ্টির পানি কখনো কখনো অম্লীয় হয়ে যেতে পারে, যা সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে কিছুটা পরিবেশগত দূষণ মিশে থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকা ভালো। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত ভেজা কাপড় পরিবর্তন করা উচিত। শরীর গরম রাখতে উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল করাও উপকারী। এরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিক থাকে।

অভিভাবকেরা অনেক সময় শিশুদের বৃষ্টিতে ভিজতে দিতে চান না ঠান্ডার ভয়ে। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকি না থাকলে সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে খেলাধুলা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বৃষ্টিতে ভেজা কি সত্যিই ক্ষতিকর? বিজ্ঞান কী বলছে

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বছরের প্রথম বৃষ্টি নামলে বাঙালির মনে এক ধরনের উদাস অনুভূতি তৈরি হয়। গ্রীষ্মের তীব্র গরমের পর আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে অনেকেই এখনো অপু–দুর্গার মতো ভিজে যাওয়ার আনন্দ খুঁজে পান। বৃষ্টির পর মাটি থেকে ওঠা সোঁদা গন্ধও মানুষের মনে আলাদা অনুভূতি জাগায়। তবে প্রশ্ন হলো—বৃষ্টির পানি কি সত্যিই বিশুদ্ধ? আর বৃষ্টিতে ভিজলে কি অসুখ হতে পারে?

বিজ্ঞান বলছে, বৃষ্টির পানিতে সাধারণত সরাসরি জীবাণু বা ভাইরাস থাকে না। তাই বৃষ্টিতে ভিজলেই ঠান্ডা লাগে—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় থাকলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল করে দিতে পারে। এতে ঠান্ডা বা অন্য অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়, বৃষ্টি পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। খরতাপের পর বৃষ্টি বাতাসের ধুলা ও দূষণ কমাতে সাহায্য করে। এতে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হয় এবং শ্বাস নেওয়াও সহজ হয়।

বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের মানসিক অবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, বৃষ্টির সময় বাতাসে নেগেটিভ আয়ন বাড়ে, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়িয়ে মানসিক প্রশান্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই বৃষ্টি অনেকের কাছে স্ট্রেস কমানোর একটি প্রাকৃতিক মাধ্যম।

ত্বক ও চুলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টির পানি তুলনামূলকভাবে কোমল। এর পিএইচ সাধারণত ত্বকের কাছাকাছি হওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করে না। তবে শহরের দূষিত পরিবেশে বৃষ্টির পানি কখনো কখনো অম্লীয় হয়ে যেতে পারে, যা সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে কিছুটা পরিবেশগত দূষণ মিশে থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকা ভালো। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত ভেজা কাপড় পরিবর্তন করা উচিত। শরীর গরম রাখতে উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল করাও উপকারী। এরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিক থাকে।

অভিভাবকেরা অনেক সময় শিশুদের বৃষ্টিতে ভিজতে দিতে চান না ঠান্ডার ভয়ে। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকি না থাকলে সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে খেলাধুলা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।