ঢাকায় পানির সংকট মোকাবিলায় ৯২০ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প, বাড়বে সরবরাহ
- আপডেট সময় : ০৩:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / 27

রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মোকাবিলায় প্রায় ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’ নামে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার পানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন বড় পানি শোধনাগার চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ সচল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি ইতোমধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বাড়তে থাকা পানির চাহিদা মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পাম্প পরিচালনা ও পানি ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা হবে।
বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ মিলিয়ন লিটার পানি উৎপাদন করছে, যা প্রায় দুই কোটি মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কারণে পানির চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৯ সালের মধ্যে ঢাকায় পানির চাহিদা বেড়ে ৩ হাজার ৫৫৮ মিলিয়ন লিটারে পৌঁছাবে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গন্ধর্বপুর ও সায়েদাবাদে বড় পানি শোধনাগারের কাজ চলছে, যা পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, ৪৫০টি পাম্প মোটর স্থাপন, আধুনিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু, ৬০টি গভীর নলকূপ সংস্কার এবং ২৮০টি পুনরায় সচল করা হবে। এছাড়া পানির মান উন্নয়নে আয়রন অপসারণ কেন্দ্র স্থাপনসহ নতুন পাম্প হাউস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে জানা গেছে।










