ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আইনি পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করতে পারে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: তারেক রহমান চার মাসে রেমিট্যান্সে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, দেশে এলো ১১৬৮ কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে প্রথমবার ডাক পেলেন রোনালদো-পুত্র সারা আলী খানের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙার কারণ জানালেন ওরি মার্কেন্টাইল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আগামী চারদিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর গুজব, জানাল পেট্রোবাংলা

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ে ২৮ বছর ভারতে বসবাস, ‘বাংলাদেশি যুবক’ দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 187

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ব্যবহার করে এক ব্যক্তি প্রায় ২৮ বছর ধরে ভারতে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশি যুবক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, তিনি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ বা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম আবুল কালাম। তিনি গত আট বছর ধরে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহরে ‘নেহা’ নামে পরিচয় দিয়ে বসবাস করছিলেন। এর আগে প্রায় ২০ বছর মুম্বাইয়ে ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ভারতে কথিত অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ভোপাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং সন্দেহ এড়াতে দীর্ঘদিন ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ব্যবহার করেন।

স্থানীয় পুলিশের দাবি, নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি আধার কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এসব নথি ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বিদেশ সফরও করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ভোপালের তালাইয়া থানার অধীনে ৩০ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোপালের বুধওয়ারা এলাকায় তিনি ‘নেহা কিন্নর’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন বাসায় বসবাস করেছেন। তার কাছ থেকে একাধিক জাল নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এসব নথি কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো বড় জালিয়াত চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাইবার বিশেষজ্ঞরা তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, বার্তা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।

ভোপালের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা শালিনী দীক্ষি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচয় যাচাই করে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযান চলাকালে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় সত্য কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে বাংলাদেশি বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ে ২৮ বছর ভারতে বসবাস, ‘বাংলাদেশি যুবক’ দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের

আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ব্যবহার করে এক ব্যক্তি প্রায় ২৮ বছর ধরে ভারতে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশি যুবক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, তিনি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ বা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম আবুল কালাম। তিনি গত আট বছর ধরে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহরে ‘নেহা’ নামে পরিচয় দিয়ে বসবাস করছিলেন। এর আগে প্রায় ২০ বছর মুম্বাইয়ে ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ভারতে কথিত অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ভোপাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং সন্দেহ এড়াতে দীর্ঘদিন ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ব্যবহার করেন।

স্থানীয় পুলিশের দাবি, নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি আধার কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এসব নথি ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বিদেশ সফরও করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ভোপালের তালাইয়া থানার অধীনে ৩০ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোপালের বুধওয়ারা এলাকায় তিনি ‘নেহা কিন্নর’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন বাসায় বসবাস করেছেন। তার কাছ থেকে একাধিক জাল নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এসব নথি কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো বড় জালিয়াত চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাইবার বিশেষজ্ঞরা তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, বার্তা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।

ভোপালের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা শালিনী দীক্ষি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচয় যাচাই করে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযান চলাকালে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় সত্য কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে বাংলাদেশি বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।