ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আগস্টেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, অপরিবর্তিত থাকছে সব ধরনের জ্বালানির মূল্য প্রথমবার লটারিতে গণপূর্তের ৭৬৭ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি, নতুন নজির সরকারের মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই যেতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর, বিমান টিকিটে আরও ২৫ হাজার টাকা কমানোর ঘোষণা ধামা ইলিয়াছের তথ্যে গ্রেফতার ডেভিড ইমন, উদ্ধার বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রের মজুদ ৪ আগস্ট বিএনপির আলোচনা সভা, প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ বাংলাদেশের ৩ লাখ ও মালয়েশিয়ার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন লেভানডফস্কি, কারণ জানালেন তার এজেন্ট আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই’— বিয়ে ও মামলা নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বিকাশে বাধা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 71

আগে শিশুদের সময় কাটত দাদি-নানিদের গল্প শুনে কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডায়। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, কার্টুন ও ভিডিও গেম। ফলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং সামাজিক দক্ষতা গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তাদের মতে, খাবারের সময় বা অবসর মুহূর্তে মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুরা খাবারের স্বাদ, রং ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে শিখতে পারে না। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ এবং আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে।

শিশুদের এই আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প বলা, বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা হচ্ছে, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার নয়, বরং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বিকাশে বাধা

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

আগে শিশুদের সময় কাটত দাদি-নানিদের গল্প শুনে কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডায়। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, কার্টুন ও ভিডিও গেম। ফলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং সামাজিক দক্ষতা গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তাদের মতে, খাবারের সময় বা অবসর মুহূর্তে মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুরা খাবারের স্বাদ, রং ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে শিখতে পারে না। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ এবং আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে।

শিশুদের এই আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প বলা, বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা হচ্ছে, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার নয়, বরং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।