ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বিকাশে বাধা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 149

আগে শিশুদের সময় কাটত দাদি-নানিদের গল্প শুনে কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডায়। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, কার্টুন ও ভিডিও গেম। ফলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং সামাজিক দক্ষতা গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তাদের মতে, খাবারের সময় বা অবসর মুহূর্তে মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুরা খাবারের স্বাদ, রং ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে শিখতে পারে না। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ এবং আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে।

শিশুদের এই আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প বলা, বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা হচ্ছে, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার নয়, বরং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বিকাশে বাধা

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

আগে শিশুদের সময় কাটত দাদি-নানিদের গল্প শুনে কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডায়। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, কার্টুন ও ভিডিও গেম। ফলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং সামাজিক দক্ষতা গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তাদের মতে, খাবারের সময় বা অবসর মুহূর্তে মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুরা খাবারের স্বাদ, রং ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে শিখতে পারে না। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ এবং আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে।

শিশুদের এই আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প বলা, বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা হচ্ছে, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার নয়, বরং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।