ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহণে জিপিএস বাধ্যতামূলক, ঘোষণা বিআরটিএ সারাদেশে ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করবে সরকার, সুবিধা পাবেন ৪০ হাজার কৃষক হাসপাতাল বন্ধ, মেডিকেল কলেজ নয়: শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে প্র্যাকটিস করতে পারবে—স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার নির্দেশ, লাইসেন্স বাতিলের পর নতুন সিদ্ধান্ত দুদকের অনুসন্ধানের পর দেশ ছাড়েন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দুবাইয়ে গ্রেফতার ঘিরে নতুন আলোচনা দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন, ১৮ জুন থেকে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন নরসিংদীতে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিল সরকার শিক্ষা বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তিন বিষয়ে: ‘শিক্ষা, শিক্ষা ও শিক্ষা’—শিক্ষামন্ত্রী মণিরামপুরে জামায়াতের তিন নেতা পদ স্থগিত, মাটি বাণিজ্য ও সংঘর্ষের অভিযোগে বড় সিদ্ধান্ত তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংককে ২,৫০০ কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বিকাশে বাধা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 36
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগে শিশুদের সময় কাটত দাদি-নানিদের গল্প শুনে কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডায়। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, কার্টুন ও ভিডিও গেম। ফলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং সামাজিক দক্ষতা গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তাদের মতে, খাবারের সময় বা অবসর মুহূর্তে মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুরা খাবারের স্বাদ, রং ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে শিখতে পারে না। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ এবং আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে।

শিশুদের এই আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প বলা, বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা হচ্ছে, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার নয়, বরং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বিকাশে বাধা

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

আগে শিশুদের সময় কাটত দাদি-নানিদের গল্প শুনে কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডায়। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, কার্টুন ও ভিডিও গেম। ফলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং সামাজিক দক্ষতা গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তাদের মতে, খাবারের সময় বা অবসর মুহূর্তে মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুরা খাবারের স্বাদ, রং ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে শিখতে পারে না। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ এবং আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে।

শিশুদের এই আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প বলা, বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা হচ্ছে, স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার নয়, বরং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।