ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ৭ প্রাকৃতিক খাবার, যা রাখতে পারেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 44

বিশ্বজুড়ে দিন দিন বাড়ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। একসময় এটি মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন না হওয়া বা উৎপাদিত ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো কোনোভাবেই চিকিৎসার বিকল্প নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি এসব খাবার গ্রহণ করলে উপকার মিলতে পারে।

মেথি

মেথির বীজে রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার ও কিছু উপাদান, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এক চা চামচ মেথি রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করলে গ্লুকোজ শোষণের গতি কমে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

দারুচিনি

দারুচিনিতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। পানিতে একটি ছোট টুকরা দারুচিনি ফুটিয়ে পান করলে গ্লুকোজ বিপাক স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আমলকী

ভিটামিন সি ও পলিফেনলে সমৃদ্ধ আমলকী শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক। নিয়মিত টাটকা আমলকী বা এর রস খেলে গ্লুকোজ বিপাক উন্নত হতে পারে। তবে রসের তুলনায় পুরো আমলকী খেলে বেশি ফাইবার পাওয়া যায়।

হলুদ

হলুদের কারকিউমিন উপাদান ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। সকালে হালকা গরম পানিতে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করলে উপকার মিলতে পারে। গোলমরিচের সঙ্গে হলুদ খেলে কারকিউমিনের শোষণও বৃদ্ধি পায়।

তুলসী

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তুলসী। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। কয়েকটি তুলসী পাতা দিয়ে তৈরি গরম চা নিয়মিত পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরায় থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি কোষের ক্ষয় কমানো এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।

নিমপাতা

নিমপাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপকারী উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিদিন সকালে কয়েকটি নিমপাতা চিবিয়ে খাওয়া বা নিমপাতার রস পান করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নতুন কোনো ভেষজ বা খাদ্য নিয়মিত গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ৭ প্রাকৃতিক খাবার, যা রাখতে পারেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে দিন দিন বাড়ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। একসময় এটি মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন না হওয়া বা উৎপাদিত ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো কোনোভাবেই চিকিৎসার বিকল্প নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি এসব খাবার গ্রহণ করলে উপকার মিলতে পারে।

মেথি

মেথির বীজে রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার ও কিছু উপাদান, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এক চা চামচ মেথি রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করলে গ্লুকোজ শোষণের গতি কমে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

দারুচিনি

দারুচিনিতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। পানিতে একটি ছোট টুকরা দারুচিনি ফুটিয়ে পান করলে গ্লুকোজ বিপাক স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আমলকী

ভিটামিন সি ও পলিফেনলে সমৃদ্ধ আমলকী শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক। নিয়মিত টাটকা আমলকী বা এর রস খেলে গ্লুকোজ বিপাক উন্নত হতে পারে। তবে রসের তুলনায় পুরো আমলকী খেলে বেশি ফাইবার পাওয়া যায়।

হলুদ

হলুদের কারকিউমিন উপাদান ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। সকালে হালকা গরম পানিতে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করলে উপকার মিলতে পারে। গোলমরিচের সঙ্গে হলুদ খেলে কারকিউমিনের শোষণও বৃদ্ধি পায়।

তুলসী

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তুলসী। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। কয়েকটি তুলসী পাতা দিয়ে তৈরি গরম চা নিয়মিত পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরায় থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি কোষের ক্ষয় কমানো এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।

নিমপাতা

নিমপাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপকারী উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিদিন সকালে কয়েকটি নিমপাতা চিবিয়ে খাওয়া বা নিমপাতার রস পান করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নতুন কোনো ভেষজ বা খাদ্য নিয়মিত গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।