৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করতে ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 13

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এ জ্বালানি সরবরাহ করবে। এ ক্রয়ে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ জ্বালানি তেল ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়। বিপিসির প্রস্তাবে ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের চাহিদা বিবেচনায় সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানি করে থাকে। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের চাহিদা মেটাতেই বিপিসির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রশাসনিক ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে এবং এখন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেওয়ার পর দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ ও বিমান চলাচলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই সরকার আগাম মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে নোয়া ইস্যু করা হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলেই জ্বালানি তেল দেশে আসতে শুরু করবে। সরকারের লক্ষ্য যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত ১ ডলার সমান ১২৩ টাকা ২৫ পয়সা বিনিময় হার অনুযায়ী এ আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৬২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে এ ব্যয় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো মজুত রয়েছে। ডলার সংকট থাকলেও জ্বালানি আমদানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ এবং মজুত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কাজও চলমান রয়েছে।




















