ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
সীমান্ত ব্যাংকে ‘কল সেন্টার সুপারভাইজার’ পদে নিয়োগ, আবেদন ৪ আগস্ট পর্যন্ত শ্যোন অ্যারেস্টে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, চার সপ্তাহে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের গ্যাস সংকটে রাজধানীতে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকরা মিরপুরে দেওয়ালধসে আহতদের দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসার সব ব্যয় বহনের আশ্বাস অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান

খেলাপি ঋণে সুদ মওকুফের সুযোগ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মূল টাকা পরিশোধের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / 26

ব্যাংক খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলাপি ঋণের মূল অর্থ এককালীন পরিশোধ করলে ঋণগ্রহীতারা সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন। এ সুবিধা নিতে হলে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মূল ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে জারি করা নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারবে এবং সেই অর্থ নতুন করে ঋণ বিতরণে ব্যবহার করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, যারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করেছেন তারা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না, অথচ খেলাপিরাই সুদ মওকুফের সুযোগ পাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোগটির সফলতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়ন ও কঠোর নজরদারির ওপর। তারা বলছেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব খাটিয়ে যেন কেউ অন্যায়ভাবে এ সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এটি যে এককালীন সুযোগ, সেই বার্তাও স্পষ্টভাবে দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যাংক খাতে ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। কিন্তু খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান, তারল্য এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ‘মন্দ ও ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতারাই এ সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে সুদ মওকুফের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে। ব্যাংককে যাচাই করতে হবে, ঋণগ্রহীতা সত্যিই আর্থিক সংকটে পড়েছেন কি না, ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে কি না এবং ঋণ পরিশোধে আন্তরিক কি না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত সংকটে থাকা এবং অতীতে ভালো লেনদেনের রেকর্ড থাকা ঋণগ্রহীতারাই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন।

এই সুবিধা পেতে ঋণগ্রহীতাকে এককালীন সব বকেয়া মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আরোপিত ও অনারোপিত সব ধরনের সুদ মওকুফ করা যাবে। এমনকি আগের নির্দেশনায় থাকা ‘কস্ট অব ফান্ড’ বা তহবিল ব্যয় পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও নতুন নির্দেশনায় শিথিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষক থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতি—সব ধরনের ঋণগ্রহীতাই সমানভাবে এ সুবিধা পাবেন। তবে কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের স্বল্পমেয়াদি ঋণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিপুল অঙ্কের ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আদায় করা সম্ভব হলে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট অনেকটাই কমবে এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়বে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমা আর বাড়ানো উচিত নয়। অন্যথায় নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের মধ্যেও খেলাপি হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতের জন্য আরও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

খেলাপি ঋণে সুদ মওকুফের সুযোগ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মূল টাকা পরিশোধের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ব্যাংক খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলাপি ঋণের মূল অর্থ এককালীন পরিশোধ করলে ঋণগ্রহীতারা সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন। এ সুবিধা নিতে হলে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মূল ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে জারি করা নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারবে এবং সেই অর্থ নতুন করে ঋণ বিতরণে ব্যবহার করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, যারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করেছেন তারা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না, অথচ খেলাপিরাই সুদ মওকুফের সুযোগ পাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোগটির সফলতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়ন ও কঠোর নজরদারির ওপর। তারা বলছেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব খাটিয়ে যেন কেউ অন্যায়ভাবে এ সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এটি যে এককালীন সুযোগ, সেই বার্তাও স্পষ্টভাবে দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যাংক খাতে ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। কিন্তু খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান, তারল্য এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ‘মন্দ ও ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতারাই এ সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে সুদ মওকুফের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে। ব্যাংককে যাচাই করতে হবে, ঋণগ্রহীতা সত্যিই আর্থিক সংকটে পড়েছেন কি না, ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে কি না এবং ঋণ পরিশোধে আন্তরিক কি না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত সংকটে থাকা এবং অতীতে ভালো লেনদেনের রেকর্ড থাকা ঋণগ্রহীতারাই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন।

এই সুবিধা পেতে ঋণগ্রহীতাকে এককালীন সব বকেয়া মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আরোপিত ও অনারোপিত সব ধরনের সুদ মওকুফ করা যাবে। এমনকি আগের নির্দেশনায় থাকা ‘কস্ট অব ফান্ড’ বা তহবিল ব্যয় পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও নতুন নির্দেশনায় শিথিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষক থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতি—সব ধরনের ঋণগ্রহীতাই সমানভাবে এ সুবিধা পাবেন। তবে কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের স্বল্পমেয়াদি ঋণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিপুল অঙ্কের ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আদায় করা সম্ভব হলে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট অনেকটাই কমবে এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়বে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমা আর বাড়ানো উচিত নয়। অন্যথায় নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের মধ্যেও খেলাপি হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতের জন্য আরও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।