ভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; আরও কয়েক জেলায় প্লাবনের শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৭:০১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 21

দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত কেন্দ্রটির সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে সেখানে নদীর পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর, সিলেটের কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড় স্টেশনে তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে। বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে একটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। এছাড়া রংপুরের বদরগঞ্জে ৯৩ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামে ৮২ মিলিমিটার, চিলমারী ও ডালিয়ায় ৮০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
একই সময়ে বাংলাদেশের উজান অঞ্চলে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ২০৩ মিলিমিটার এবং আসামের ডিব্রুগড়ে ১০৫ মিলিমিটার অতিভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলও দেশের নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী তিন দিনও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। আগামী ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে গঙ্গা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিন পর আবার বাড়তে পারে। একই সময়ে পদ্মা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেলেও উভয় নদীই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীগুলো সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলের প্লাবন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টায় ধরলা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রামে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বাড়লেও ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
তবে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোতে আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির কারণে পানির উচ্চতা কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরি, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর পানিও আগামী তিন দিনে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।






















