ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আগস্টেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, অপরিবর্তিত থাকছে সব ধরনের জ্বালানির মূল্য প্রথমবার লটারিতে গণপূর্তের ৭৬৭ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি, নতুন নজির সরকারের মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই যেতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর, বিমান টিকিটে আরও ২৫ হাজার টাকা কমানোর ঘোষণা ধামা ইলিয়াছের তথ্যে গ্রেফতার ডেভিড ইমন, উদ্ধার বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রের মজুদ ৪ আগস্ট বিএনপির আলোচনা সভা, প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ বাংলাদেশের ৩ লাখ ও মালয়েশিয়ার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন লেভানডফস্কি, কারণ জানালেন তার এজেন্ট আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই’— বিয়ে ও মামলা নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

তাড়াহুড়ো করে খাবার খাচ্ছেন? বাড়তে পারে ওজনসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 23

ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই খুব দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দ্রুত খাবার খাওয়া শুধু হজমের সমস্যা নয়, ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের কম সময়ে একটি খাবার শেষ করলে সেটিকে দ্রুত খাওয়া হিসেবে ধরা হয়। কারণ, পেট ভরে যাওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এর আগেই খাবার শেষ হয়ে গেলে শরীর বুঝতে পারে না কখন খাওয়া বন্ধ করা প্রয়োজন।

দ্রুত খাওয়ার অন্যতম বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ। পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি আসার আগেই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন, যা সময়ের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে না খেলে বড় টুকরায় পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়। ফলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, অস্বস্তি কিংবা হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। দ্রুত খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলার কারণেও পেট ফাঁপা ও ভারী অনুভূতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুত খাবার খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে যারা ধীরে এবং সচেতনভাবে খাবার খান, তারা সাধারণত কম ক্যালরি গ্রহণ করেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হন।

দ্রুত খাওয়ার পেছনে টিভি দেখা, মোবাইল ব্যবহার করা বা কাজের ফাঁকে তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার মতো অভ্যাসও ভূমিকা রাখে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যায় এবং কতটুকু খাওয়া হচ্ছে, তা অনেক সময় বোঝা যায় না।

খাওয়ার গতি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ পরামর্শ দিয়েছেন। খাওয়ার সময় মোবাইল ও টিভি থেকে দূরে থাকা, প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া, মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া এবং শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এর মধ্যে অন্যতম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, এটি উপভোগেরও একটি অংশ। তাই ধীরে-সুস্থে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাবারের স্বাদও আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তাড়াহুড়ো করে খাবার খাচ্ছেন? বাড়তে পারে ওজনসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই খুব দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দ্রুত খাবার খাওয়া শুধু হজমের সমস্যা নয়, ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের কম সময়ে একটি খাবার শেষ করলে সেটিকে দ্রুত খাওয়া হিসেবে ধরা হয়। কারণ, পেট ভরে যাওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এর আগেই খাবার শেষ হয়ে গেলে শরীর বুঝতে পারে না কখন খাওয়া বন্ধ করা প্রয়োজন।

দ্রুত খাওয়ার অন্যতম বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ। পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি আসার আগেই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন, যা সময়ের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে না খেলে বড় টুকরায় পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়। ফলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, অস্বস্তি কিংবা হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। দ্রুত খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলার কারণেও পেট ফাঁপা ও ভারী অনুভূতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুত খাবার খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে যারা ধীরে এবং সচেতনভাবে খাবার খান, তারা সাধারণত কম ক্যালরি গ্রহণ করেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হন।

দ্রুত খাওয়ার পেছনে টিভি দেখা, মোবাইল ব্যবহার করা বা কাজের ফাঁকে তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার মতো অভ্যাসও ভূমিকা রাখে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যায় এবং কতটুকু খাওয়া হচ্ছে, তা অনেক সময় বোঝা যায় না।

খাওয়ার গতি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ পরামর্শ দিয়েছেন। খাওয়ার সময় মোবাইল ও টিভি থেকে দূরে থাকা, প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া, মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া এবং শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এর মধ্যে অন্যতম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, এটি উপভোগেরও একটি অংশ। তাই ধীরে-সুস্থে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাবারের স্বাদও আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করে।