প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 17

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ লক্ষ্যে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ জানান, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। নতুন এই কারিকুলামে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে নাগরিক শিক্ষা (সিভিক এডুকেশন), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত এবং বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় ও চ্যালেঞ্জিং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাপানের নাগরিক শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিজ্ঞান ল্যাবের মতো গণিত শিক্ষাকেও আরও আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জাইকার কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা প্রশাসনে কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে থাইল্যান্ড ও তুরস্কের শিক্ষা প্রশাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে। মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর দায়িত্ব বণ্টন, জবাবদিহিতা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং মনিটরিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জাইকা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মো. ছাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হাসান, জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মরিকাওয়া ইউকোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























