৩৫ বছর পর যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি
- আপডেট সময় : ০৫:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 5

৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর শরীরে ধীরে ধীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। কর্মব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও শরীরচর্চার ঘাটতির কারণে অনেক সময় বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে নিয়মিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে অনেক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ৩৫-এর পর ব্যক্তিভেদে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে। পরিবারে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। আবার ধূমপান, স্থূলতা ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণেও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করা জরুরি।
ডায়াবেটিস শনাক্তে এইচবিএ১সি পরীক্ষাকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা হয়, যা গত তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা জানায়। এর মাধ্যমে প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আগেই ধরা পড়ে।
উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই এগুলো শরীরে ক্ষতি করে। তাই বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ ও লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
এছাড়া লিভার ও কিডনি ফাংশন টেস্টের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বর্তমানে ফ্যাটি লিভার ও কিডনি সমস্যার হার বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
থাইরয়েডের সমস্যাও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশি দেখা দিতে পারে, যা ওজন পরিবর্তন, ক্লান্তি, চুল পড়া ও মানসিক অস্থিরতার মতো লক্ষণ তৈরি করে। নারীদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, তাই নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা জরুরি।
ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও এখন সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে দুর্বলতা, হাড় ও পেশির ব্যথা, ক্লান্তি ও স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এসব ঘাটতি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক রোগেরই প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ দেখা যায় না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা রোগের ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করে।

























