নতুন বাজেটে বাড়তে পারে কর-ভ্যাটের চাপ, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / 191

নতুন অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়াতে একের পর এক কর ও ভ্যাট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই এসব প্রস্তাব নতুন বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বাজেট প্রণয়নের আগে এনবিআর ব্যবসায়ী সংগঠন, খাতভিত্তিক সমিতি, চেম্বার প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যা এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এবারের বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সরবরাহে উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া রপ্তানি প্রণোদনার উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।
উপজেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনতে মাসিক এক হাজার টাকা বা বছরে ১২ হাজার টাকা হারে প্যাকেজ ভ্যাট আরোপের চিন্তাভাবনা চলছে। একইসঙ্গে অনলাইনে সহজে ভ্যাট নিবন্ধনের সুযোগ চালু করা হতে পারে।
আগামী অর্থবছর থেকে ব্যাংকে চলতি হিসাব খুলতে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এদিকে পাস্তা, ফলের রস, আইসক্রিম, কোমল পানীয়, প্রসাধনীসামগ্রী, সিগারেট-বিড়ি ও জর্দা-গুলের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি কিছু ভোজ্যতেল ও ইস্পাতজাত পণ্যের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার এলডিসি উত্তরণের শর্ত পূরণে আমদানি পণ্যের কিছু শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করলেও ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের চিন্তা করছে।























