ভুয়া ফটোকার্ডের দাপট, এআই অপপ্রচারে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা
- আপডেট সময় : ০৬:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 190

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড ও বিকৃত ছবি ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তবে প্রযুক্তিগতভাবে এসব কনটেন্ট প্রথম কে ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা।
সম্প্রতি ভুয়া ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা এসব ছবি বা ফটোকার্ড মুহূর্তেই সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পেতেও জটিলতার মুখে পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার এখন নতুন ধরনের ডিজিটাল সন্ত্রাসে রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে আইন ও নীতিমালা থাকলেও বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, ভুয়া ফটোকার্ড সাধারণত ভুয়া আইডি থেকে ছড়ানো হয়। তবে ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার পেট্রোলিং, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে উৎস শনাক্ত করা সম্ভব। দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
এদিকে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ডিপফেক বা এআই-নির্মিত কনটেন্ট শুধু তথ্য নয়, মানুষের আবেগ নিয়েও প্রভাব ফেলে। অনেক সময় এসব ভুয়া কনটেন্ট থেকে সামাজিক সংঘাত, সহিংসতা এমনকি রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি। কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


























