ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আগস্টেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, অপরিবর্তিত থাকছে সব ধরনের জ্বালানির মূল্য প্রথমবার লটারিতে গণপূর্তের ৭৬৭ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি, নতুন নজির সরকারের মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই যেতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর, বিমান টিকিটে আরও ২৫ হাজার টাকা কমানোর ঘোষণা ধামা ইলিয়াছের তথ্যে গ্রেফতার ডেভিড ইমন, উদ্ধার বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রের মজুদ ৪ আগস্ট বিএনপির আলোচনা সভা, প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ বাংলাদেশের ৩ লাখ ও মালয়েশিয়ার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন লেভানডফস্কি, কারণ জানালেন তার এজেন্ট আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই’— বিয়ে ও মামলা নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানোন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার

রিফাতুজ্জামান প্রিন্স
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 58

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এটি একদিন বা এক বছরে সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা হবে।

শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক। চিকিৎসকরা রোগীর প্রকৃত বন্ধু এবং বিপদের সময়ে সহায়তার হাত। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার ও পরামর্শ ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসকদের শুধু পেশাগত দক্ষতাই নয়, মানবিক গুণাবলীতেও সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকার একটি সুস্বাস্থ্যসমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে রোগ শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ মৃত্যুর বড় অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারাই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, সরকার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং পর্যায়ক্রমে ব্যাপক সংখ্যক স্বাস্থ্য সহায়ক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী হবেন।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রসূতি সেবা, নিরাপদ প্রসব এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবার উপযুক্ত কেন্দ্রে রূপান্তরের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিগগিরই একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং যে কোনো হাসপাতাল থেকে সহজে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে। এছাড়া ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবশেষে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তারা নিজ নিজ এলাকায় কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন।

সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানোন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার

আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এটি একদিন বা এক বছরে সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা হবে।

শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক। চিকিৎসকরা রোগীর প্রকৃত বন্ধু এবং বিপদের সময়ে সহায়তার হাত। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার ও পরামর্শ ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসকদের শুধু পেশাগত দক্ষতাই নয়, মানবিক গুণাবলীতেও সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকার একটি সুস্বাস্থ্যসমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে রোগ শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ মৃত্যুর বড় অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারাই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, সরকার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং পর্যায়ক্রমে ব্যাপক সংখ্যক স্বাস্থ্য সহায়ক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী হবেন।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রসূতি সেবা, নিরাপদ প্রসব এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবার উপযুক্ত কেন্দ্রে রূপান্তরের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিগগিরই একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং যে কোনো হাসপাতাল থেকে সহজে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে। এছাড়া ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবশেষে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তারা নিজ নিজ এলাকায় কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন।

সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।