ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আইনি পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করতে পারে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: তারেক রহমান চার মাসে রেমিট্যান্সে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, দেশে এলো ১১৬৮ কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে প্রথমবার ডাক পেলেন রোনালদো-পুত্র

স্পেনের বিশ্বজয়ে গাজাজুড়ে উল্লাস, ফিলিস্তিনিদের কাছে এটি কেবল ফুটবল নয়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 149

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে এই জয়ের আনন্দ শুধু স্পেনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিনজুড়ে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এটি কেবল একটি ফুটবল জয় নয়, বরং তাদের প্রতি স্পেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়েছে।

গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যক্তিগতভাবে খেলা দেখা সম্ভব না হওয়ায় ক্যাফে ও খোলা স্থানে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়। শত শত মানুষ সেখানে একত্রিত হয়ে ফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে উল্লাসে মেতে ওঠেন ফিলিস্তিনিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও শিশু-কিশোরদের আনন্দ উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়।

ওমানের সমাজকর্মী শাবান আহমেদ আল-আজিলিসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, গাজা তাদের পাশে দাঁড়ানো বন্ধুদের কখনো ভুলে না। তাদের মতে, স্পেনের এই জয় ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে কঠিন সময়ের এক বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বও অভিনন্দন জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ক্রীড়া অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হামাসের কর্মকর্তা বাসেম নাঈমও স্পেনের এই জয়কে স্বাগত জানান এবং ফিলিস্তিন ও তাদের সমর্থকদের অভিনন্দন জানান।

শুধু গাজাই নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুসসহ বিভিন্ন শহরেও স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে বিজয় মিছিল বের হয়। ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্টরা তাদের শিল্পকর্মে স্পেনের খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে দিয়ে দুই দেশের সংহতির প্রতীক তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের এই আবেগের পেছনে রয়েছে স্পেনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থান। ২০২৪ সালে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান এবং তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নেয় মাদ্রিদ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক চুক্তি স্থগিত করার আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর ইসরাইলপন্থী অবস্থানের কারণেও স্পেনের জয় অনেক ফিলিস্তিনির কাছে বাড়তি তাৎপর্য বহন করেছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক মনে করছেন। যুদ্ধ, ধ্বংস ও মানবিক সংকটের মধ্যেও স্পেনের বিশ্বজয় ফিলিস্তিনিদের জন্য এক বিরল আনন্দের মুহূর্ত এনে দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পেনের বিশ্বজয়ে গাজাজুড়ে উল্লাস, ফিলিস্তিনিদের কাছে এটি কেবল ফুটবল নয়

আপডেট সময় : ০৬:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে এই জয়ের আনন্দ শুধু স্পেনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিনজুড়ে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এটি কেবল একটি ফুটবল জয় নয়, বরং তাদের প্রতি স্পেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়েছে।

গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যক্তিগতভাবে খেলা দেখা সম্ভব না হওয়ায় ক্যাফে ও খোলা স্থানে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়। শত শত মানুষ সেখানে একত্রিত হয়ে ফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে উল্লাসে মেতে ওঠেন ফিলিস্তিনিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও শিশু-কিশোরদের আনন্দ উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়।

ওমানের সমাজকর্মী শাবান আহমেদ আল-আজিলিসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, গাজা তাদের পাশে দাঁড়ানো বন্ধুদের কখনো ভুলে না। তাদের মতে, স্পেনের এই জয় ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে কঠিন সময়ের এক বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বও অভিনন্দন জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ক্রীড়া অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হামাসের কর্মকর্তা বাসেম নাঈমও স্পেনের এই জয়কে স্বাগত জানান এবং ফিলিস্তিন ও তাদের সমর্থকদের অভিনন্দন জানান।

শুধু গাজাই নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুসসহ বিভিন্ন শহরেও স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে বিজয় মিছিল বের হয়। ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্টরা তাদের শিল্পকর্মে স্পেনের খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে দিয়ে দুই দেশের সংহতির প্রতীক তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের এই আবেগের পেছনে রয়েছে স্পেনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থান। ২০২৪ সালে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান এবং তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নেয় মাদ্রিদ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক চুক্তি স্থগিত করার আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর ইসরাইলপন্থী অবস্থানের কারণেও স্পেনের জয় অনেক ফিলিস্তিনির কাছে বাড়তি তাৎপর্য বহন করেছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক মনে করছেন। যুদ্ধ, ধ্বংস ও মানবিক সংকটের মধ্যেও স্পেনের বিশ্বজয় ফিলিস্তিনিদের জন্য এক বিরল আনন্দের মুহূর্ত এনে দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি