শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও গোপনীয়তা: ৩০ অঙ্গরাজ্যের মামলায় জুরি ট্রায়ালের মুখোমুখি মেটা
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 107

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াসহ ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় জুরি ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। মামলাটিতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে শিশু ও তরুণদের ক্ষতিকরভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর বিবিসির।
ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সের এজলাসে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি জরিমানা দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন বাদীপক্ষ।
মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের বিভিন্ন অ্যালগরিদম এবং ডিজাইন শিশু ও তরুণদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখতে এবং তাদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করতে সহায়তা করে।
এ কারণে প্ল্যাটফর্মগুলোর বিভিন্ন ফিচারে পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাইক গণনা বন্ধ করা, ইনফিনিট স্ক্রল ব্যবস্থা বাতিল, ভিডিওর স্বয়ংক্রিয় প্লেব্যাক বন্ধ, অবাস্তব ইমেজ ফিল্টার বাদ দেওয়া এবং একজন ব্যবহারকারীর একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরির সুযোগ সীমিত করা।
এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় এমন কনটেন্টের ব্যবস্থাও বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দিয়েছে বাদীপক্ষ।
মেটা অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তরুণ ব্যবহারকারীদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। আদালতের শুনানিতে তারা নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত শিশুদের ক্ষতির অভিযোগে মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেন। একই সঙ্গে মেটার কিছু কর্মকাণ্ডকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের যৌথ মামলায় মেটা পরাজিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের নিয়ম ও ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডিজাইন ও অ্যালগরিদমের ওপরও পড়তে পারে।






















