‘বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই’— ইশরাক হোসেন
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 1

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। আর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার এক রক্তাক্ত সংগ্রাম—এমন মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং গর্বিত জাতীয় পতাকা উপহার দিয়েছে। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলন ছিল স্বাধীন দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই। মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি।
তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে চেতনা মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল, সেই একই আকাঙ্ক্ষা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও প্রতিফলিত হয়েছে। সার্বভৌমত্ব শুধু সীমান্ত বা মানচিত্রের বিষয় নয়, বরং দেশের সিদ্ধান্ত দেশের জনগণই নেবে—এটাই প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্র তাদের কাছে ঋণী এবং তাদের আত্মত্যাগ কেবল আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে নয়, সত্য প্রতিষ্ঠা, মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং বিচার সম্পন্নের মাধ্যমে সম্মান জানাতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী এবং সহযোগীদের কাউকেই আইনের বাইরে রাখা হবে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিশোধের বিচার নয়, বরং গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ বিচার চায়। একই সঙ্গে অযৌক্তিক বিলম্ব ছাড়া যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই বিচার সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আহত আন্দোলনকারীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো আহত জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং কোনো শহীদ পরিবার অবহেলিত থাকবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আন্দোলনের ইতিহাস, শহীদ ও আহতদের পরিচয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সাল শিখিয়েছে পরাধীনতার কাছে মাথা নত করা যায় না, আর জুলাই আন্দোলন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে স্বাধীন দেশেও স্বৈরাচার ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না। বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দল বা বিদেশি শক্তির সম্পত্তি নয়—এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ।























