ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের দামে বড় পতন, তবু পাঁচ মাস পর মাসিক লাভের পথে
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 3

আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দাম আবারও শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) লেনদেনে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা হ্রাস পাওয়ায়, পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো মাস শেষে লাভের পথে রয়েছে স্বর্ণ। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ১.৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৯.৮৩ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দরপতন প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছিল। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারসের দাম ১.৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১০৭ ডলারে নেমে আসে।
দাম কমলেও পুরো মাসের হিসাবে স্বর্ণের মূল্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১.১ শতাংশ বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ মাসিক প্রবৃদ্ধি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসায় ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমেছে। পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুতে তেলের দাম ইরান যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে আসাও স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, টানা চার মাসের ক্ষতির ধারা কাটিয়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে স্বর্ণ। তবে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার ওপরে অবস্থান শক্তিশালী করতে এখনও বাজারকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুদের হার বৃদ্ধির দিকেই মনোযোগ সীমাবদ্ধ রাখবেন না—এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের দামকে ৪ হাজার ডলারের ওপরে ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, আগের কার্যদিবসে প্রায় ২.৪ শতাংশ দরপতনের পর শুক্রবার ডলারের মূল্য স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। শক্তিশালী ডলারের কারণে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে বাজারে চাহিদা কমে যায়।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এক সপ্তাহ আগেও এই সম্ভাবনা ছিল ৮০ শতাংশের বেশি।
অন্যদিকে, চীনের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সৌরবিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোকে অস্বাস্থ্যকর মূল্য প্রতিযোগিতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সোলার ফটোভোলটাইক প্যানেল উৎপাদনে রুপা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হওয়ায় এ খাতের পরিস্থিতিও মূল্যবান ধাতুর বাজারে প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভারের দাম ২.১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৫৭.৭৬ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫০.১৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮১.১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে দরপতন হলেও মাস শেষে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়াম উভয়ই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।


















