‘জনস্বার্থ বিসর্জন নয়’— আইএমএফ ইস্যুতে সরকারের কঠোর অবস্থান জানালেন অর্থমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 11

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের জনগণের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো শর্ত মেনে সরকার আইএমএফের কোনো প্রোগ্রামে যুক্ত হবে না।
রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য আইএমএফের অর্থায়ন গ্রহণ করা নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণ এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
তিনি জানান, সরকার এমন একটি নতুন কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত থাকবে। ভবিষ্যতে যে কোনো আন্তর্জাতিক আর্থিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় আইএমএফের সঙ্গে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, সেটি জনস্বার্থবিরোধী ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচিতে এমন কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার সেই কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে।
এ সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিদ্যমান ভিসা নীতির সংস্কার প্রয়োজন এবং সেটিকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে।
অর্থমন্ত্রীর আশা, ভিসা নীতির আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে।
ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।




















