পৃথিবীতে থাকতে পারে ২ কোটি পোকামাকড়ের প্রজাতি, অধিকাংশই এখনো অজানা
- আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 176

বিজ্ঞানীরা এখনো পৃথিবীর অধিকাংশ পোকামাকড়ের প্রজাতি শনাক্ত করতে পারেননি। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত পোকামাকড়ের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ হলেও প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর বিপুলসংখ্যক পোকামাকড় এখনো বিজ্ঞানের নথির বাইরে রয়েছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এতদিন পৃথিবীতে প্রায় ৬০ লাখ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও নতুন পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিকভাবে এই সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখের মধ্যে হতে পারে। গবেষকদের মধ্যম হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রায় ২ কোটি প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে।
গবেষণাটি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এতে কোস্টারিকার গুয়ানাকাস্তে ন্যাশনাল পার্কে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি পোকামাকড় জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে পরজীবী বোলতা (প্যারাসিটয়েড ওয়াস্প) নিয়ে গবেষণা করা হয়, যেগুলো অন্য পোকামাকড়ের শরীরে ডিম পাড়ার জন্য পরিচিত।
গবেষকরা ফাঁদে ধরা বিভিন্ন পোকামাকড় এবং পরজীবী আক্রান্ত শুঁয়োপোকার নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, বিভিন্ন জরিপ পদ্ধতিতে শনাক্ত হওয়া প্রজাতির মধ্যে মিল খুবই কম। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্তৃত নমুনা সংগ্রহের পরও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের বড় একটি অংশ এখনো অজানা রয়ে গেছে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশেষ বিশ্লেষণে গবেষকরা ধারণা করেন, শুধু গুয়ানাকাস্তে ন্যাশনাল পার্কেই তিন লাখের বেশি পোকামাকড়ের প্রজাতি থাকতে পারে। পরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃক্ষবৈচিত্র্যের সঙ্গে তুলনা করে বৈশ্বিক প্রজাতির সম্ভাব্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া একাডেমি অব সায়েন্সেসের কীটতত্ত্ব বিভাগের কিউরেটর ব্রায়ান ফিশার বলেন, বর্তমান গবেষণার হিসাবও পোকামাকড়ের প্রকৃত বৈচিত্র্যকে কম করে দেখাতে পারে। তাই প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষকদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত নানা চাপের কারণে অসংখ্য পোকামাকড়ের প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অনেক প্রজাতি বিজ্ঞানীদের আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পারে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।















