ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আইনি পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করতে পারে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: তারেক রহমান চার মাসে রেমিট্যান্সে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, দেশে এলো ১১৬৮ কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে প্রথমবার ডাক পেলেন রোনালদো-পুত্র সারা আলী খানের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙার কারণ জানালেন ওরি মার্কেন্টাইল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আগামী চারদিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর গুজব, জানাল পেট্রোবাংলা

বিদ্যুৎ বিল কেন বাড়ছে? নতুন ট্যারিফ, বেশি ব্যবহার ও উচ্চ স্ল্যাবের ব্যাখ্যা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / 40

জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিল বৃদ্ধি মিটারের ত্রুটির কারণে নয়। নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়া, বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উচ্চতর ট্যারিফ স্ল্যাবে চলে যাওয়াই বিল বাড়ার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

সোমবার বিদ্যুৎ ভবনে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুন মাস থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হয়েছে। এর ফলে একই পরিমাণ অর্থে আগের তুলনায় কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের আগের চেয়ে বেশি বার রিচার্জ করতে হচ্ছে। এ কারণেই অনেকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিভাগটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র গরম, কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, ফিফা বিশ্বকাপ, এসএসসি পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক গ্রাহক উচ্চতর ট্যারিফ স্ল্যাবে চলে গেছেন, যার কারণে তাদের বিদ্যুৎ বিলও আগের তুলনায় বেশি এসেছে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ স্বীকার করেছে, কিছু ক্ষেত্রে বিল প্রস্তুতের সময় করণিক ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বিল পুনঃপরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।

বিভাগটি জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে লাইফলাইন এবং প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য আগের ট্যারিফ বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকি অব্যাহত রেখে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো এবং স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণে কাজ চলছে।

যেসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। অভিযোগের ভিত্তিতে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃযাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে মিটার ভাড়া নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে বিদ্যুৎ স্থাপনার কোনো ধরনের ক্ষতি না করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ বিল কেন বাড়ছে? নতুন ট্যারিফ, বেশি ব্যবহার ও উচ্চ স্ল্যাবের ব্যাখ্যা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ

আপডেট সময় : ০৫:২৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিল বৃদ্ধি মিটারের ত্রুটির কারণে নয়। নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়া, বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উচ্চতর ট্যারিফ স্ল্যাবে চলে যাওয়াই বিল বাড়ার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

সোমবার বিদ্যুৎ ভবনে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুন মাস থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হয়েছে। এর ফলে একই পরিমাণ অর্থে আগের তুলনায় কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের আগের চেয়ে বেশি বার রিচার্জ করতে হচ্ছে। এ কারণেই অনেকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিভাগটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র গরম, কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, ফিফা বিশ্বকাপ, এসএসসি পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক গ্রাহক উচ্চতর ট্যারিফ স্ল্যাবে চলে গেছেন, যার কারণে তাদের বিদ্যুৎ বিলও আগের তুলনায় বেশি এসেছে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ স্বীকার করেছে, কিছু ক্ষেত্রে বিল প্রস্তুতের সময় করণিক ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বিল পুনঃপরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।

বিভাগটি জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে লাইফলাইন এবং প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য আগের ট্যারিফ বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকি অব্যাহত রেখে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো এবং স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণে কাজ চলছে।

যেসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। অভিযোগের ভিত্তিতে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃযাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে মিটার ভাড়া নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে বিদ্যুৎ স্থাপনার কোনো ধরনের ক্ষতি না করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।